আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাল সমুদ্রে যখন নতুন ঝড় উঠছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে চিন্তিত হওয়ার সময় এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দ্য টেকআউট’-এর বিশেষ সংস্করণে প্রধান সম্পাদক মেজর গ্যারেট ইরান নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি নতুন করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
গ্যারেটের সঙ্গে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রেসলার ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক সারা মার্টিন। তাঁরা আলোচনায় তুলে ধরেছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পেছনের কারণ এবং এই সংঘাতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিণতি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
ড্রেসলার উল্লেখ করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। কিছু দেশ ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, আবার অনেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক ঘোষণা থেকে স্পষ্ট যে, তারা সামরিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে এবং দেশটির চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলির শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে।’
সারা মার্টিন তাঁর বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি থেকেই আসছে না, বরং সিরিয়া, ইয়েমেন ও লেবাননের মতো অঞ্চলগুলিতে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও এর অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে, যা ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলিতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।’
বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এই প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা কেবল ইরান নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মন্তব্য করুন