বরিশালের ফকিরবাড়ি মসজিদ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা যা ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। এই মসজিদটি ১৮১০ সালে শাহ করিম বকস বাগদাদী নির্মাণ করেছিলেন। বরিশালের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত।
শাহ করিম বকস বাগদাদী ছিলেন একজন ধর্মসাধক যিনি বাগদাদ থেকে বরিশালে আসেন। তিনি ধর্মপ্রচার ও সমাজসেবার কাজে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি ‘ফকির সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন।
১৮০৩ সালে রহমতপুরের জমিদার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী তাকে ৮.৫৭ একর জমি দান করেন। সেখানে তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন যা তিন গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদের সামনে প্রশস্ত আঙিনা ও প্রবেশদ্বার ছিল।
বর্তমানে মসজিদটি বরিশালের সদর রোডের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। মসজিদের আয়তন দৈর্ঘ্যে ৪০ ফুট, প্রস্থ ৩০ ফুট এবং উচ্চতা ২৫ ফুট। মসজিদের দক্ষিণ পাশে শাহ করিম বকস বাগদাদী ও তার পরিবারের কবর রয়েছে।
ফকিরবাড়ি মসজিদ প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর ১৮১৩ সালে জমিদার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকায় কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে পাশাপাশি দুটি এলাকার নাম হয় ফকিরবাড়ি ও কালীবাড়ি। বরিশাল নগরে এখনও এই দুটি এলাকা ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের দেশের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সম্পর্কে জানতে চান। বরিশালের এই মসজিদটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি সুন্দর উদাহরণ।
ফকিরবাড়ি মসজিদের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। তবে মূল কাঠামো সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবছর রমজান মাসে এখানে ইফতার আয়োজন করা হয় যেখানে অনেক মানুষ অংশ নেন।
এই মসজিদটি বরিশালের ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি সুন্দর উদাহরণ। আমাদের দেশের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে।
মন্তব্য করুন