এক বছর আগে নিজেদের অবস্থা বুঝতে পেরে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইডাহো রাজ্যের বাসিন্দা সামি ও জ্যাক ওয়েডেমেয়ার দম্পতি। নতুন বছর শুরু হওয়ার পর হিসেব কষে তাঁরা দেখতে পান যে তাঁদের পরিবারের উপর জমা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার ডলার ঋণ! স্বাভাবিক জীবনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে ধীরে ধীরে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা তাঁদের ঘাড়ে চেপেছিল, তা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনতে গিয়ে জানিয়েছেন তাঁরা।
এরপর থেকেই নিজেদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনেন তাঁরা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের ঋণ পরিশোধের যাত্রার কথা নিয়মিত তুলে ধরে তাঁরা নিজেদের দায়বদ্ধ রাখার পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত আয়ও করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই তাঁরা তাঁদের ঋণের প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী বছরের মধ্যেই অন্তত আরও অর্ধেক ঋণ পরিশোধ করার লক্ষ্য নিয়েছেন তাঁরা। এভাবে চললে আগামী দুই বছরের মধ্যেই তাঁদের ঋণের অর্ধেক মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
সামি ও জ্যাকের ঋণের প্রধান উৎস ছিল তাঁদের গাড়ি, গৃহস্থলির ঋণ (হোম ইক্যুইটি লাইন অফ ক্রেডিট) এবং শিক্ষা ঋণ। অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন যে তাঁরা হয়তো বিলাসিতা বা অনিয়ন্ত্রিত খরচের কারণে এই বিপুল ঋণের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কথায়, তাঁরা আসলে স্বাভাবিক জীবনের মধ্যেই এই ঋণের বোঝা বহন করেছেন। তাঁদের কথায়, “আমরা তো স্বাভাবিকভাবেই গাড়ির ঋণ নিয়েছি, বাড়ির ঋণ নিয়েছি, মেরামতের জন্যেও ঋণ নিয়েছি। আজকের দিনে এত ঋণ থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ঋণের সুদ বেড়েই চলেছে। একসময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাঁরা তাঁদের ট্রাকটি বিক্রি করে দেন। যার ফলে তাঁদের ঋণ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই ৪১ হাজার ডলার বাদ পড়ে যায়। সেই সঙ্গে মাসিক গাড়ির বীমা ও জ্বালানির খরচও বেঁচে যায়। যদিও এর ফলে তাঁদেরকে বন্ধুবান্ধবের সাহায্যে যাতায়াত করতে হয়, তবুও তাঁরা নিজেদের সিদ্ধান্তের প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সামি বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলার পর থেকে আমাদের সেই পরিকল্পনা অনুসরণ করতেই হবে।”
এছাড়াও তাঁরা তাঁদের জীবনযাত্রায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। আগে যেখানে মাসে ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার খরচ হতো খাবারের পিছনে, এখন তাঁরা সেই খরচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। অ্যালকোহল, স্পিনড্রিফটের মতো পানীয় বর্জন করা থেকে শুরু করে বাইরে খেতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের প্রধান অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকে মনিটাইজড হওয়ার ফলে তাঁরা কিছু আয়ও করছেন। এছাড়াও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও মনিটাইজেশনের চেষ্টা করছেন তাঁরা। এমনকি তাঁরা নিজেদের ডিজিটাল পণ্য তৈরির দিকে এগোচ্ছেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাঁরা শিখেছেন কীভাবে নিজেদের আয় থেকে বেশি ব্যয় না করে জীবনযাপন করা যায়। সামি বলেন, “আমরা আগে ভাবতেও পারিনি যে এক বছরে ১ লাখ ডলার ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য আরও বেশি পরিশোধ করার। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি যে ছোট ছোট সিদ্ধান্তই হয়তো আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে।”
মন্তব্য করুন