গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টার দিকে হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাঙ্কারটির নাম এমটি ট্রুম্যান ট্রাইডেন্ট, যা সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাচ্ছিল। হামলায় ট্যাঙ্কারের ক্ষুদ্র ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও সামরিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে মার্কিন সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানিয়েছে, তারা এই হামলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যেই মার্কিন নৌবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যাতে আর কোনো হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের সরকার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্য প্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংঘর্ষে জড়াতে চায় না, তবে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঘটনার পরপরই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে এবং তার প্রতি সমর্থন জানাতে মিত্র দেশগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: CBC NEWS
মন্তব্য করুন