ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাওয়া ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’ তথা ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সেন্সর বোর্ডের কাটছাঁটের প্রসঙ্গ। দেশের সর্বজনীন চলচ্চিত্র অনুমোদন সংস্থা সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) চলচ্চিত্রটির উপর বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। মুক্তির ঠিক একদিন আগে শেষ হওয়া সেন্সর প্রক্রিয়ায় মোট ২১টি জায়গায় কাটাছাঁটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিষয় হল সহিংস দৃশ্যগুলিতে দৃঢ় ভাবে হস্তক্ষেপ করা। চারটি বিশেষ সহিংস দৃশ্যে সর্বমোট ৩৪ সেকেন্ড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, হাতুড়ির আঘাতের দৃশ্যে দুই সেকেন্ড, সিমেন্ট ব্লকের আঘাতের দৃশ্যে চার সেকেন্ড, চোখে আঘাতের দৃশ্যে চার সেকেন্ড এবং সবচেয়ে বেশি ২৪ সেকেন্ড কমানো হয়েছে শিরশ্ছেদ ও লাথির দৃশ্যগুলিতে।
কাটছাঁট শুধু দৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সংলাপেও এসেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। কিছু অশালীন শব্দ নীরব করা হয়েছে আবার কিছু শব্দ সম্পূর্ণ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু চরিত্রের নাম পরিবর্তন এবং কয়েকটি শব্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে। এছাড়া চলচ্চিত্রটির ট্রেলারে প্রকাশিত রণবীর সিং এর উপস্থিতি সম্পর্কেও সেন্সর বোর্ড থেকে সতর্কবার্তা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বার্তাগুলির মধ্যে রয়েছে মাদক সংক্রান্ত সতর্কতা এবং দর্শকদের উদ্দেশ্যে ‘এই চলচ্চিত্রে বিরক্তিকর দৃশ্য রয়েছে’ বলে উল্লেখ করে একটি সতর্কীকরণ বার্তা।
এছাড়াও চলচ্চিত্রটিতে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখের ক্ষেত্রে সাবটাইটেল সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে একটি শহরের নামের ক্ষেত্রেও নির্ভুলতা আনতে বলা হয়েছে। প্রাণী সংক্রান্ত দৃশ্যের জন্য নির্মাতারা অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার বোর্ড অব ইন্ডিয়ার অনুমোদন জমা দিয়েছেন। একইসাথে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কিত উল্লেখ ও নিউজ ফুটেজ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য কমিয়ে দেওয়া হয়েছে মোট ৯৪ সেকেন্ড অর্থাৎ এক মিনিট ৩৪ সেকেন্ড। ফলে চলচ্চিত্রটির নতুন দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২২৯ মিনিট ৬ সেকেন্ড বা প্রায় তিন ঘণ্টা চল্লিশ নয় মিনিট। উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রটির প্রথম পর্বের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২১৪ মিনিটের কিছু বেশি। অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্বটি প্রায় পনেরো মিনিট দীর্ঘ।
রণবীর সিং অভিনীত এই ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রটির মুক্তি পেতে চলেছে আগামীকাল অর্থাৎ ১৯ মার্চ। চলচ্চিত্র জগতের এক অন্যতম ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের উত্তরাধিকারী হিসেবে ‘ধুরন্ধর ২’ এর ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও সেন্সর কাটছাঁটের কারণে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি কিছুটা অসন্তোষও তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্মাতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে পরিবর্তিত সংস্করণটিও দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হবে।
এদিকে চলচ্চিত্রটি সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে চলচ্চিত্রটির কাটছাঁট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে কেন এই ধরনের কাটছাঁট প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে কিছু দর্শক মনে করছেন যে সেন্সরের এই পদক্ষেপ চলচ্চিত্রটির মৌলিকত্বকে ক্ষুন্ন করেছে। তবে যাই হোক না কেন, চলচ্চিত্রটি নিয়ে জনমানসে যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা প্রশ্নাতীত।
মন্তব্য করুন