ঈদ মানেই আনন্দের উৎসব। কিন্তু সেই আনন্দ যেন সবার মুখেই ফুটে ওঠে—এই বোধ থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে সাভার বন্ধুসভা। প্রতি বছর ঈদের সময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে মহৎ উদ্যোগ তারা গ্রহণ করে থাকেন, তারই ধারাবাহিকতায় এবারও পালিত হলো ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচি। গত ১৪ মার্চ সাভারের আড়াপাড়া এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সদস্যরা। তাদের উদ্যোগে আটজন শিশুকে নতুন পোশাক উপহার দেয়া হয় এবং দুজন প্রবীণ ব্যক্তিকে ঈদের বাজার করে দেওয়া হয়। এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ সমানভাবে বিতরণ করা। সাভার বন্ধুসভার সদস্যরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারাটাই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সহসভাপতি দিবাকর বিনতে আলম বলেন, ‘আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সমাজের প্রতিটি মানুষের মুখে যেন ঈদের আনন্দ ফুটে ওঠে, সেজন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকি।’ সাধারণ সম্পাদক তানজীল তাবাসসুমও একই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও আমরা এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখব এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’
উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ম ঘোষসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। তারা জানান, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে একাত্মতার বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তাদের মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতার হাত ধরে একসময় পরিবর্তন আসবেই। পাশাপাশি, তারা আরও জানান যে, আগামীতেও তারা এমন সামাজিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন অব্যাহত রাখবেন।
সাভার বন্ধুসভার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। অনেকেই তাদের এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এমন উদ্যোগ সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত আরও বেশি বেশি মানুষকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করা।’ অন্যজন বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
সাভার বন্ধুসভার মতো সংগঠনগুলির মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শুধু সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনয়নই নয়, বরং সমাজে একতা ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও মজবুত করে। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে একটা ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বছরও সাভার বন্ধুসভা তাদের এই মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন কর্মকাণ্ড আরও বেশি বেশি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশা করা যায়।
মন্তব্য করুন