মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি স্থগিতের কারণে ট্রাভেলের অরাজকতা দেখা দিলেও এমন কিছু বিমানবন্দর রয়েছে যেখানে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা চেকিংয়ে কোনো ধরনের বিলম্বের মুখোমুখি হতে হবে না। কারণ সেসব বিমানবন্দরে সরকারি কর্মচারীর পরিবর্তে বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা নিরাপত্তা পরিষেবা প্রদান করছেন। ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ) পরিচালিত ‘স্ক্রিনিং পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম’-এর অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ২০টি বিমানবন্দরে বেসরকারি সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। ফলে সরকারি স্থগিতের কারণে যেসব টিএসএ কর্মীরা বেতন না পেয়ে কাজ থেকে বিরত রয়েছেন, সেসব বিমানবন্দরে ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকছে।
এই প্রোগ্রামটি ২০০৪ সালে চালু হয়েছিল। সরকারি কর্মচারীদের মতোই বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীরাও একই প্রশিক্ষণ, প্রক্রিয়া এবং তত্ত্বাবধানের মধ্য দিয়ে কাজ করেন। তবে পার্থক্য হলো, সরকারি স্থগিতের সময় তাদের বেতন স্থগিত হয় না কারণ এটি প্রাক-অর্থায়িত ফেডারেল চুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে কর্মীরা নিয়মিত কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। এই বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে সান ফ্রান্সিস্কো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এসএফও) এবং ক্যানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এমসিআই)-এর মতো বড় বিমানবন্দরও রয়েছে, যেখানে প্রতি দিন হাজার হাজার যাত্রীকে নিরাপত্তা চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
তবে সরকারি কর্মচারীদের নেতৃত্বাধীন বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে ভ্রমণকারীদের প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউ অর্লিন্স, হিউস্টন হবি এবং আটলান্টার মতো বিমানবন্দরে প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে যাত্রীদের। সরকারি স্থগিত শুরু হওয়ার পর থেকে টিএসএ-এর প্রায় তিন শতাধিক কর্মী কাজ ছেড়ে দিয়েছেন অথবা অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে কর্মী সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা সরকারি স্থগিতের কারণে সৃষ্ট কর্মী সংকট থেকে বিমানবন্দরগুলোকে রক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বিমানবন্দরগুলোতে সরকারি কর্মীদের তুলনায় বেসরকারি কর্মীরা দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম। কারণ এক্ষেত্রে কর্মীদের অনুপস্থিতির প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। নার্ডওয়ালেটের ভ্রমণ বিশ্লেষক স্যালি ফ্রেঞ্চ বলেন, ‘যেসব ছোট বিমানবন্দরে মাত্র দুই-তিনজন কর্মী থাকেন, সেখানে একজন অনুপস্থিত থাকলে পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা সেই সংকট সামাল দিতে সক্ষম।’
এই প্রোগ্রামের অধীনে পরিচালিত বিমানবন্দরগুলোর তালিকায় রয়েছেঃ অ্যাটলান্টিক সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (নিউ জার্সি), চার্লস এম. শুলজ়-সোনোমা কাউন্টি বিমানবন্দর (ক্যালিফোর্নিয়া), ডসন কমিউনিটি বিমানবন্দর (মন্টানা), গ্রেট ফলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (মন্টানা), গ্ল্যাসিয়ার পার্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (মন্টানা), গ্রেটার রোচেস্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (নিউ ইয়র্ক), হ্যাভার সিটি-কাউন্টি বিমানবন্দর (মন্টানা), ক্যানসাস সিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (মিসৌরি), এল এম ক্লেটন বিমানবন্দর (মন্টানা), অরল্যান্ডো সানফোর্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ফ্লোরিডা), পোর্টসমাউথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (নিউ হ্যাম্পশায়ার), পান্টা গোর্দা বিমানবন্দর (ফ্লোরিডা), রোজওয়েল আন্তর্জাতিক এয়ার সেন্টার (নিউ মেক্সিকো), সান ফ্রান্সিস্কো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ক্যালিফোর্নিয়া), সারাসোটা-ব্র্যাডেন্টন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ফ্লোরিডা), সিডনি-রিকল্যান্ড পৌর বিমানবন্দর (মন্টানা), সিউ ফলস আঞ্চলিক বিমানবন্দর (দক্ষিণ ডাকোটা), টুপেলো আঞ্চলিক বিমানবন্দর (মিসিসিপি), ভোকাল ফিল্ড/গ্লাসগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (মন্টানা) এবং ইয়েলোস্টোন বিমানবন্দর (মন্টানা)।
এই বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। উদাহরণস্বরূপ, সান ফ্রান্সিস্কো বিমানবন্দরে কাজ করছে ‘কোভেন্যান্ট অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি’ এবং ক্যানসাস সিটি বিমানবন্দরে কাজ করছে ‘ভিএমডি কর্পোরেশন’। এই সংস্থাগুলোর কর্মীরা সরকারি কর্মচারীদের মতোই প্রশিক্ষিত এবং নিয়মিত তদারকির মধ্য দিয়ে কাজ করেন। ফলে সরকারি স্থগিতের সময়েও বিমানবন্দরগুলোতে স্বাভাবিক পরিষেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে।
বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধা থাকলেও কিছু বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সরকারি কর্মচারীদের পরিবর্তে বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের নিয়োগ দিলে কর্মীদের বেতন এবং সুযোগ-সুবিধা কমে যেতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা দিতে পারে। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলো দাবি করছে, তাদের ব্যবস্থাপনা সরকারি ব্যবস্থার চেয়ে সাশ্রয়ী এবং দক্ষ। এমনকি কানাডা এবং ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন