বিশ্বজুড়ে গাড়ি নির্মাতা ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলি স্বপ্ন দেখছে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির। স্বয়ংচালিত গাড়ি চালানোর মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে তারা কাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়েমো ও টেসলার স্বপ্ন প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ, এই গাড়িগুলি আসলে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত নয়। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা, প্রকৌশলীদের সাক্ষাৎকার ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছে, বর্তমান প্রযুক্তিতে নির্মিত কোনও গাড়িই পুরোপুরি স্বাধীনভাবে চলতে সক্ষম নয়।
একাধিক পরীক্ষা ও গবেষণার পর প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সীমিত পর্যায়ে কাজ করতে পারলেও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারে না। বিশেষ করে জটিল শহুরে পরিবেশে, যানজটপূর্ণ রাস্তায় বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে এই গাড়িগুলি প্রায়শই ব্যর্থ হয়। ওয়েমো ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের গাড়িগুলিকে ‘ফুলি সেলফ-ড্রাইভিং’ হিসেবে প্রচার করলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলি এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
স্বয়ংক্রিয় গাড়ির অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেন্সর প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা। বর্তমান প্রযুক্তিতে গাড়িগুলি সড়কের চিহ্ন, অন্যান্য যানবাহন এবং পথচারীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। বিশেষ করে আবহাওয়া পরিবর্তন, রাস্তার অবস্থা বা দুর্ঘটনার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখোমুখি হলে এই গাড়িগুলি প্রায়শই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখনও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কে দায়ী হবে—গাড়ির নির্মাতা, সফটওয়্যার নির্মাতা নাকি ব্যবহারকারী—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অস্পষ্ট।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং-এর উন্নতির উপর। তবে সেই দিন এখনও অনেক দূরে। কারণ, বর্তমান প্রযুক্তি এখনও মানুষের মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ব্যাপক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন যথাযথ অবকাঠামো ও আইনি কাঠামোর সমন্বয়। অনেক দেশেই এখনও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের পথে রয়ে গেছে অনেক বাধা।
সর্বোপরি, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন এখনও অধরা রয়ে গেছে। প্রযুক্তির উন্নতি সত্ত্বেও মানুষের জীবনের মতো জটিল ও অনির্দেশ্য পরিস্থিতিতে গাড়িকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে চালানো এখনও কঠিন। এজন্য প্রয়োজন আরও গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়। শুধুমাত্র তখনই স্বয়ংক্রিয় গাড়ির স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য করুন