মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে গত মার্চ মাসে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সম্প্রতি এক ভেনেজুয়েলার অভিবাসী যুবকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শিকাগো পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ মার্চ রাতের দিকে শহরের রজার্স পার্ক এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর প্রথম বর্ষের ছাত্রী শেরিডান গরম্যান (১৮)। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বিচার বিভাগীয় সূত্র জানায়, ২৫ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার নাগরিক জোসে মেডিনা-মেডিনাকে প্রথম শ্রেণীর হত্যা, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গরম্যানকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালানো হয়নি বলে তারা ধারণা করছে। ঘটনার পরই অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ অভিবাসী এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গরম্যান মধ্যরাতের পর রজার্স পার্ক এলাকার টোবি প্রিনজ বিচের কাছে বন্ধুদের সাথে হাঁটছিলেন। হঠাৎ একটি গুলি এসে লাগে তার পিঠে। ঘটনাস্থলে একটি খোলা কার্তুজ পাওয়া যায় প্রায় ৪০ ফুট দূর থেকে। পুলিশ আরও জানায়, গুলিবর্ষণের সময় গরম্যানের সাথে তার কয়েকজন বন্ধুও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত জোসে মেডিনা-মেডিনাকে গত বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোল গ্রেফতার করে এবং পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জুন মাসে তাকে শিকাগোতে একটি দোকান থেকে চুরির অভিযোগে আবার গ্রেফতার করা হয় এবং একইভাবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুসারে, তার বিরুদ্ধে আগেও শপলিফ্টিংয়ের অভিযোগ ছিল। বিচারাধীন মামলায় হাজির না হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
এ ঘটনায় শেরিডান গরম্যানের পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, “সেদিন রাতে শেরিডান তার বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাসের কাছাকাছি হাঁটছিলেন। এটি ছিল স্বাভাবিক ও নিরাপদ ঘটনা। কিন্তু তার জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এক নির্মম ঘটনার মাধ্যমে। আমরা চাই না এটি ‘ভুল সময়, ভুল স্থান’ হিসেবে বিবেচিত হোক। এটি কোনও দৈব ঘটনা নয়, এটি ছিল প্রতিরোধযোগ্য এক সহিংস কাজ।”
অভিবাসন বিরোধী কর্মীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বহুবার মুক্তি দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, অভিবাসন বিরোধী আইনের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছেন যে অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল নীতির কারণে স্থানীয় পুলিশ অভিবাসী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে না। শিকাগো এবং ইলিনয় রাজ্যের অভিবাসন বিরোধী নীতির কারণে স্থানীয় পুলিশ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তথ্য সরবরাহ করতে বা তাদের হেফাজতে রাখতে পারেন না।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিবাসন বিরোধী কর্মীরা সরকারের প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল। অন্যদিকে, অভিবাসন বিরোধী আইনের বিরোধীরা বলেছেন যে অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা উচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়।
বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মার্চের ২৩ তারিখে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয় সেদিকে সকল মহলের দৃষ্টি রয়েছে। অভিবাসন ও অপরাধের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
মন্তব্য করুন