নিউইয়র্কের বিখ্যাত লাগুয়ার্ডিয়া বিমানবন্দরে রোববার রাতে সংঘটিত ভয়াবহ রানওয়ে দুর্ঘটনায় দুই কানাডিয়ান পাইলটের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার ট্রাকের সাথে বিমানের সংঘর্ষের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, দুজন পাইলটই ছিলেন তরুণ ও তাদের কর্মজীবনের শুরুর দিকে। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ক্যাপ্টেন অ্যান্টোয়েন ফরেস্ট এবং অপরজন ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ম্যাকেঞ্জি গান্থার। তারা দুজনেই এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি বিমান পরিচালনা করছিলেন, যা মন্ট্রিয়ল থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। দুর্ঘটনার সময় বিমানটি প্রায় ১০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে চলছিল বলে জানা গেছে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ অনুযায়ী ফায়ার ট্রাকটি যখন রানওয়ে পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছিল, তখনই হঠাৎ করে তাদের থামতে বলা হয়েছিল। এই তথ্যটি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রেকর্ড করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার পরপরই এফএএ প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড জানিয়েছেন, দুজন পাইলটই ছিলেন কর্মজীবনের শুরুর দিকে থাকা উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তিনি জানান, রানওয়েতে থাকা সতর্কীকরণ ব্যবস্থাটি দুর্ঘটনার আগে সঠিকভাবে কাজ করেনি।
ক্যাপ্টেন অ্যান্টোয়েন ফরেস্টের বড় চাচী জ্যানেট গ্যানিয়ার তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অ্যান্টোয়েন সবসময় বিমান চালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার লিংকডইন পেজ অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে তিনি দুটি এয়ারলাইন্সের সাথে কাজ করেছেন। ফরেস্টের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, তিনি কানাডার কুতো-ডু-ল্যাক নামক একটি ছোট শহরের বাসিন্দা ছিলেন। শহরের মেয়র আন্দ্রে ব্রোসো একটি বিবৃতিতে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘অ্যান্টোয়েন ছিল আমাদেরই একজন। আমাদের মতো ছোট শহরে সবাই তাকে চিনত। তার মৃত্যু পুরো সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিরাট ক্ষতি।’
অ্যান্টোয়েনের ভাই সেডরিক ফরেস্ট তাঁর সঙ্গে শৈশবের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘নিরাপদ বিমান যাত্রা করো, ভাই। আমরা প্রায়ই এই কথাটি শুনে থাকি, কিন্তু এবারই শেষবার। তুমি সর্বদা নতুন প্রকল্পের চিন্তায় ব্যস্ত থাকতে। হাওয়ায় মিলিয়ে গেলে আবার ফিরে আসবে না। বিদায় ভাই, তোমাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যাও।’ ফরেস্টের প্রেমিকা এবং একজন তরুণ পাইলট নিজের ফেসবুক পেজে তাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমার জীবনের প্রেম।’
অপর পাইলট ম্যাকেঞ্জি গান্থারের পরিচয় প্রকাশ করেছে টরন্টোর সিনেকা পলিটেকনিক কলেজ। কলেজটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ২০২৩ সালে অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি প্রোগ্রাম থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। এরপর তিনি এয়ার কানাডার জ্যাজ অ্যাভিয়েশন পাথওয়েজ প্রোগ্রামে যোগ দেন। কলেজটির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছিল তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে। একজন যাত্রী ক্লেমেন্ট লেলিভর জানিয়েছেন, বিমান অবতরণের সময় পাইলটদের অসাধারণ প্রতিবর্ত ক্ষমতার কারণে তাঁদের জীবন রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘তারা অত্যন্ত দ্রুত ব্রেক চেপেছিলেন।’
বিমানটিতে মোট ৭২ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনায় ৩৯ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছয়জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। রানওয়ে সতর্কীকরণ ব্যবস্থা দুর্ঘটনার আগে সক্রিয় না হওয়ার বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন