কলম্বাস, যুক্তরাষ্ট্র — জাতীয় কলেজিয়েট অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএএ) টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আরেকটি নতুন অধ্যায় লেখা হলো। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির স্কারলেট দল শনিবার লুইভিল দলকে ৭৭-৬৯ ব্যবধানে পরাজিত করে সুইট সিক্সটিনে প্রবেশ করেছে। এই জয় মহান বাস্কেটবল কিংবদন্তি ম্যাজিক জনসনের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দিয়ে স্পার্টান দলের পয়েন্ট গার্ড জেরেমি ফিয়ার্স জুনিয়রকে ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
ফিয়ার্স তার দলের হয়ে ১৬টি অ্যাসিস্ট প্রদান করেন, যা এনসিএএ টুর্নামেন্টের এক ম্যাচে প্রদত্ত অ্যাসিস্টের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মাধ্যমে তিনি ম্যাজিক জনসনের ১৯৭০-এর দশকের পুরনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যান। ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে জয়ী হওয়া ম্যাচের পর ফিয়ার্স বলেন, “এটি পয়েন্ট গার্ডদের বিশ্ববিদ্যালয়।” তার কথায় যুক্ত হয়েছিল মিশিগান স্টেটের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা, যেখানে ম্যাজিক জনসন ছাড়াও ম্যাটিন ক্লিভস, ক্যাসিয়াস উইনস্টন, স্কট স্কাইলস এবং ক্যালিন লুকাস ছিলেন অসাধারণ পয়েন্ট গার্ড।
জেরেমি ফিয়ার্স জুনিয়র নিজেকে ‘দ্য ফ্লোর জেনারেল’ নামে পরিচয় দিয়ে থাকেন। বর্তমান মৌসুমে তিনি ইতিমধ্যেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তিনি প্রথম স্পার্টান খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে ৩০০টিরও বেশি অ্যাসিস্ট করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার গড় পরিসংখ্যান হলো প্রতি ম্যাচে ১৫.৪ পয়েন্ট, ৯.২ অ্যাসিস্ট এবং ২.৪ রিবাউন্ড। শনিবারের ম্যাচে তিনি দ্বৈত অর্জন করেন — ১২ পয়েন্ট, ১৬ অ্যাসিস্ট এবং ৩ রিবাউন্ড। এর আগে উত্তর ডাকোটা স্টেটের বিপক্ষে প্রথম রাউন্ডের ম্যাচেও তিনি ছিলেন দ্যুতিময়, যেখানে তার অবদান ছিল ৭ পয়েন্ট এবং ১১ অ্যাসিস্ট।
ইলিনয় রাজ্যের জোলিয়েট শহরের অধিবাসী ফিয়ার্স একজন দক্ষ গার্ড, যার উচ্চতা ছয় ফুট দুই ইঞ্চি এবং ওজন ১৯০ পাউন্ড। তিন মৌসুম ধরে তিনি স্পার্টান দলের অপরিহার্য সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার ক্যারিয়ার গড় হলো প্রতি ম্যাচে ১০ পয়েন্ট, ৬.৭ অ্যাসিস্ট, ১.১ স্টিল এবং ২.২ রিবাউন্ড। এখন পর্যন্ত তিনি ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন।
ধারাভাষ্যকারদের মতে, ফিয়ার্সের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স স্পার্টান দলকে পরবর্তী রাউন্ডে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে স্পার্টান দল হয় ইউসিএলএ অথবা ইউকনের মুখোমুখি হবে। তারা দ্বিতীয়বারের মতো এলিট এইটে প্রবেশের এবং ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনাল ফোরে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। মহামারি পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২০২০ সালে টুর্নামেন্ট বাতিল হওয়ার পর থেকে মিশিগান স্টেট টানা চারবার প্রথম সপ্তাহ পার করেছে, যা দলটির ক্রমাগত সাফল্যের প্রমাণ দেয়।
বাস্কেটবলপ্রেমী মহলে ফিয়ার্সের এই কীর্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বেই স্পার্টান দল সম্ভাব্য শিরোপার দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সামনের ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন