মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচজন বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন নরসিংদীর ৪২ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম। শনিবার (১৪ মার্চ) তার মেয়ে রিয়া মণির মতে, শফিকুলের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এই দুর্ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে, মালদ্বীপের রাজধানী মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে দিঘুরা দ্বীপের একটি গেস্ট হাউসে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মালদ্বীপ একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য, বিশেষ করে যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদেশে যান। তবে এই দুর্ঘটনা তাদের পরিবারকে অশান্তি এবং দুঃখে ডুবিয়ে দেয়। শফিকুলের পরিবার তার মৃত্যুর খবর শুনে ভীষণ শোকাকুলিত। রিয়া মণি বলেন, ‘আমরা আমার বাবাকে কখনো ফিরে পাবো না। তার মৃত্যু আমাদের জীবনকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছে।’
এই দুর্ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে শফিকুলের পাশাপাশি অন্য চারজনও ছিলেন। মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রধানত হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং গেস্ট হাউসের কাজে নিয়োজিত থাকে। এই ধরনের দুর্ঘটনা তাদের জীবনকে বিপদে ফেলে দেয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মালদ্বীপে কাজ করা একটি সাধারণ ব্যাপার। অনেকেই জীবিকা নির্বাহের জন্য এখানে আসে, কিন্তু তারা প্রায়শই বিপদময় পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। এই দুর্ঘটনায় শফিকুলের মৃত্যু আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা কতই গুরুত্বপূর্ণ।
শফিকুলের পরিবার এবং তার মেয়ে রিয়া মণি আশা করছেন যে, এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার এবং মালদ্বীপের কর্তৃপক্ষ প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিবে। তারা বলেন, ‘আমাদের বাবার মৃত্যু বেকার হবে না। আমরা চাই যে, অন্য প্রবাসী শ্রমিকদের এ ধরনের দুর্ঘটনায় মারা না যাওয়ার জন্য সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’
এই দুর্ঘটনা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন কতই বিপজ্জনক হতে পারে। তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বিদেশে যান, কিন্তু প্রায়শই তাদের পরিবার তাদের মৃত্যুর খবর শুনে ভীষণ শোকাকুলিত হন। আমাদের সবার দায়িত্ব হলো প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।
মন্তব্য করুন