ProbasiNews
২৫ মার্চ ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরে সালিশি বিচারে খুন, প্রতিশোধে পুড়লো পাঁচ ঘর

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় এক চুরির ঘটনার সালিশি বৈঠকে অংশ নিয়ে নির্মম হত্যার শিকার হলেন ফল ব্যবসায়ী জাকির শেখ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর পৌরসভার উত্তর দড়গ্রাম এলাকায় তার জামাতার বাড়িতে সালিশি বৈঠকে বসে প্রতিপক্ষ পক্ষের হামলায় তিনি নিহত হন। ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় কয়েকটি বসতঘরে আগুন দিয়ে ক্ষতিসাধন করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এখনও তদন্ত চলছে।

ঘটনার বিবরণ অনুসারে, জাকির শেখ তার জামাতার বাড়িতে সালিশে অংশ নিতে গেলে সেখানকার প্রতিপক্ষ দলের সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরে মারাত্মকভাবে আক্রমণ চালায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে মৃত্যুর পূর্বে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সালিশি বৈঠকটি ছিল চুরির ঘটনার বিচার নিয়ে আলোচনার জন্য। কিন্তু বৈঠকের মধ্যেই অপ্রত্যাশিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।

পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসন ও থানা পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতেও সরব হয়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল রাজৈর এলাকা। স্থানীয় জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও জনমানসে রয়ে গেছে ক্ষোভের আগুন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, জাকির শেখের পরিবারের সদস্যরা বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন। তারা দাবি করেছেন, যেন দ্রুত হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হয় এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার সূত্র ধরে ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, গ্রামীণ সালিশ ব্যবস্থার নামে এমন হত্যাকাণ্ড যেন বন্ধ করা হয়। এছাড়া, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপেরও দাবি জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ সালে কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় মেটা, অ্যামাজন, ইপিক গেমস — জানুন বিস্তারিত

এক্স-এ আলোড়ন! এলন মাস্কের হস্তক্ষেপে থমকে দাঁড়ালো ট্রলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ স্থগিত রাখতে যুগান্তকারী আইন আনছেন স্যান্ডার্স ও এওসি

এপস্টাইনের কেলেঙ্কারী: যুক্তরাজ্য ছাড়ার পরামর্শ রাজকুমারী বিট্রিসকে

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বিপদ ঘনীভূত! প্রস্তাবিত সমাধানই কি বিপরীতমুখী ফল আনবে?

‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন অ্যাগেইন’ সিজন ২ এপিসোড ২ এর মুক্তির তারিখ ও দেখার উপায়

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এমন কিছু ভুল করবেন না যাতে হতে পারে আইআরএস অডিট

ব্রক লেসনার তাঁর বুকের বিশাল তরবারি ট্যাটুর পিছনের অদ্ভুত গল্পটি ফাঁস করলেন!

নতুন বাড়ির পিছনের জলাশয়ে মিলল অপ্রত্যাশিত অতিথি! রোজিনের জীবনে যোগ দিল এক ব্যাঙ

২০২৬ সালের হারিকেন মরশুমে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে ‘সুপার এল নিনো’! আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস

১০

ছবির দিনের ঠিক আগ মুহূর্তে মা যখন দেখলেন সন্তানের মুখে মার্কার কলমের ছোপ!

১১

ডেলিভারি ড্রাইভারের আবেগঘন স্বীকারোক্তি: তিন বছরের ‘পোষা প্রাণীর বন্ধুত্ব’!

১২

বিশ্বখ্যাত কোচ ব্র্যাড স্টিভেন্সের পদ প্রত্যাখ্যান! ইউনিসিকে দিলেন ফিরিয়ে

১৩

নির্মাণ প্রকল্প পরিচালনায় বিপ্লব আনতে এআই এজেন্ট তৈরি করল স্টার্টআপ, উঠল ৯ মিলিয়ন ডলার

১৪

১৪ বছর বয়সে ক্যান্সার প্রতিরোধে বিপ্লব: হার্ভার্ডের ছাত্রীর উদ্যোগে ৪০ হাজার যুবকের সামিল হওয়া

১৫

মেগান মার্কলের একপাত্র স্প্যাগেটি: মাত্র বিশ মিনিটে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার

১৬

হঠাৎ ছুটি মানেই এখন বিমানযাত্রা নয় — দাম আর সময়ের ভোগান্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ভ্রমণের ধারা

১৭

আয়ের থেকে কম নিয়ে জীবনের ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব? একজনের অভিজ্ঞতা

১৮

গাড়ি ছাড়াই ভ্রমণের জন্য আদর্শ সাতটি মার্কিন শহর

১৯

ভাইরাল হওয়া আমার বেকারিকে বাঁচিয়েছিল, কিন্তু কখনোই অর্থের জন্য নয়

২০