টেক দুনিয়ায় নতুন ঝড় তুলেছে ‘ভাইব-কোডিং’। এআইয়ের হাত ধরে স্বাভাবিক ভাষায় আদেশ দিয়ে সফটওয়্যার তৈরির এই প্রযুক্তি এখন বিপ্লব ঘটিয়ে দিচ্ছে। ইমার্জেন্ট নামের একটি স্টার্টআপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মুকুন্দ ঝা মনে করেন, ভাইব-কোডিংয়ের বাজার এখনো তার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে— ঠিক বিটকয়েন যখন $১ ছিল সেই মুহূর্তের মতো। তাঁর দাবি, এই ক্ষেত্রটি এখনও অনেকটাই অবমূল্যায়িত।
মুকুন্দ ঝা জানিয়েছেন, ভাইব-কোডিংয়ের মাধ্যমে সফটওয়্যারের উৎপাদনশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা যখন আরো বৃদ্ধি পাবে, তখন পুরো শিল্প একটি বিশাল পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। তিনি একে তুলনা করেছেন সেই সময়ের সঙ্গে যখন পৃথিবীর মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ লেখাপড়া জানত। তাঁর মতে, ভাইব-কোডিংয়ের বাজার প্রায় অসীম, কারণ এটি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের প্রয়োজনমতো টুল তৈরি করতে সাহায্য করছে।
ইমার্জেন্টের প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ডেভেলপারদের সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি। কারণ দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়িক সমস্যার কাছাকাছি থাকা মার্কেটিং, প্রোডাক্ট ও সেলস বিভাগের কর্মীরাও নিজেদের সফটওয়্যার তৈরি করতে সক্ষম হবেন।’ তাঁর মতে, বিশ্বে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডেভেলপার রয়েছে, যেখানে জ্ঞানভিত্তিক কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন। এই বিশাল সংখ্যক মানুষ ভাইব-কোডিংয়ের মাধ্যমে সফটওয়্যার তৈরিতে অংশ নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইমার্জেন্ট ঘোষণা করেছিল যে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র আট মাসের ব্যবধানে বার্ষিক পুনরাবৃত্তি আয় (এআরআর) ১০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। এর আগে এই আয় ছিল মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলার, যা মাত্র এক মাসেই দ্বিগুণ হয়েছে। এটি এআই কোডিং কোম্পানিগুলোর দ্রুত প্রবৃদ্ধিরই প্রমাণ। জানুয়ারিতে ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছিল যে ইমার্জেন্ট ৭০ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ বি ফান্ডিং সংগ্রহ করেছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। খোসলা ভেঞ্চারস, সফটব্যাঙ্ক ভিশন ফান্ড ২, লাইটস্পিড, প্রোসাস, টুগেদার, ওয়াই কম্বিনেটর এবং গুগলের এআই ফিউচারস ফান্ড এই স্টার্টআপটির মূল পৃষ্ঠপোষক।
ইমার্জেন্ট একা নয়— সুইডেনের লোভেবল নামের আরেকটি স্টার্টআপও দ্রুত বর্ধনশীল এআই কোডিং টুল নির্মাণ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আয় কর্মকর্তা রায়ান মিডোজ জানিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক পুনরাবৃত্তি আয় এক মাসের ব্যবধানে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় কোর্সার গত নভেম্বরে ঘোষণা করেছিল যে তাদের বার্ষিক আয় ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ভাইব-কোডিংয়ের এই বিপ্লব কেবল শুরু। শীঘ্রই এটি প্রযুক্তিগত দক্ষতার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যার ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান— সবাই নিজেদের প্রয়োজনমতো সফটওয়্যার তৈরিতে সক্ষম হবে। এই বিপ্লবের কেন্দ্রে রয়েছেন মুকুন্দ ঝা ও তাঁর মতো উদ্যোক্তারা, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে ভাইব-কোডিংয়ের যুগ এখনই শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন