একটি পরিবারের প্রিয় প্রাণীটির মৃত্যুর পর তার সঙ্গী কুকুরটির মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে। দুই ভাইয়ের মতো একসঙ্গে বেড়ে ওঠা দুই বোয়রবয়েল জাতের কুকুর ম্যাক্সিমাস ও মরফিয়াসের মধ্যে ছিল অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। দু’জন একসঙ্গে ঘুমাত, খেলত, এমনকি একসঙ্গে ঘুরেও বেড়াত। কিন্তু গত বছর মরফিয়াসের ক্যান্সার ধরা পড়লে পরিবারটির জীবনে নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে মরফিয়াসকে অস্ত্রোপচার করা হয়, যা তাকে আরও এক বছর বাঁচিয়ে রাখে। সেই সময়ে পরিবারটি তার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে টিউমার আবার ফিরে আসলে মরফিয়াসের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অবশেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পরিবারের ঘরেই শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মৃত্যু তাকে বিদায় নিতে হয়।
মরফিয়াসের মৃত্যু পরিবারের সবার জন্য ভয়াবহ ছিল, তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে তার সঙ্গী ম্যাক্সিমাস। মরফিয়াসের মৃত্যুর পর ম্যাক্সিমাস পুরো বাড়িতে আলাদাভাবে ঘুরতে শুরু করে। সে মরফিয়াসের সেসব স্থানে যেতে শুরু করে যেখানে সে সাধারণত থাকত। এমনকি খাবার খাওয়াও প্রায় চার দিন বন্ধ রাখে সে। পুরো পরিবারের জন্যই বাড়িটি যেন খালি খালি লাগতে শুরু করে।
ম্যাক্সিমাসের কষ্ট দেখে পরিবারটি তাকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য নতুন রুটিন তৈরি করে। তাকে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়, খেলাধুলা করানো হয় এবং মরফিয়াসের ছবির কাছে আরামদায়ক বিছানা পাতা হয়। এমনকি তাকে প্রশান্তি দেওয়ার জন্য ক্যালমিং ট্রিটস ও অ্যানজাইটি ওয়াপারও দেওয়া হয়। ম্যাক্সিমাসকে সাহায্য করার পাশাপাশি সে নিজেও পরিবারটিকে সাহায্য করে। ম্যাক্সিমাসের উপস্থিতিই যেন পরিবারের সদস্যদের মনোবল শক্ত করে।
ম্যাক্সিমাসের মালিক হিলারি ক্যালটন বলেন, “আমি যখন কষ্ট পাই, ম্যাক্সিমাস সেটা টের পায় এমনভাবে যেন কোন কথা বলার প্রয়োজন হয় না। তার উপস্থিতিই আমাকে একা লাগতে দেয় না এই কষ্টের সময়ে।” তিনি আরও জানান, মরফিয়াসের ছবি ঝুলানো হয়েছে ছেলের ঘরের বাইরে যাতে পুরো পরিবার তার কাছাকাছি থাকতে পারে। ম্যাক্সিমাসও ছবিটির দিকে তাকিয়ে থাকে সব সময়। এমনকি সে ছবির নিচেই ঘুমাতে শুরু করেছে। ক্যালটন বলেন, প্রথমবার যখন তিনি ম্যাক্সিমাসকে ছবির নিচে ঘুমাতে দেখেন, তখন তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। এখন সেখানে একটি আরামদায়ক বিছানাও পাতা হয়েছে যাতে ম্যাক্সিমাস মরফিয়াসের দিকে তাকিয়ে প্রশান্তি পেতে পারে।
ক্যালটন আরও বলেন, হয়তো একদিন সময় হলে তাদের অন্য একটি সঙ্গী গ্রহণের কথা ভাবা যাবে ম্যাক্সিমাসের জন্য। কিন্তু যাই হোক না কেন, মরফিয়াসকে কখনই ভোলা যাবে না বা তার স্থলাভিষিক্ত করা যাবে না। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ম্যাক্সিমাসের প্রতিক্রিয়া দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ৮৮ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে এবং শত শত মানুষ তাদের মন্তব্য জানিয়েছেন। একজন বলেছেন, “এই দৃশ্য আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। তুমি এখন প্রতিদিন তোমার ভাইকে দেখতে পারবে।” আরেকজন বলেন, “তাদের বন্ধন এত সুন্দর যে ম্যাক্সিমাস স্পষ্টতই বুঝতে পারে ছবিটি কী।” তৃতীয় একজন মন্তব্য করেন, “আমি খুশি যে ম্যাক্সিমাসের এমন একটি জায়গা আছে যেখানে সে শান্তিতে থাকতে পারে, জানতে পারে যে মরফিয়াস তার সঙ্গেই আছে।”
মন্তব্য করুন