বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করে দেওয়া এক নাটকীয় ম্যাচে বিশ্ব বেসবল ক্লাসিকের ফাইনালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভেনেজুয়েলা। মিয়ামির লোনডিপট পার্ক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হওয়া দুই দলের মধ্যেকার এই ম্যাচটি ছিল এমন এক লড়াই, যা দীর্ঘদিন ধরে বেসবলপ্রেমীদের স্মরণীয় করে রাখবে। নিয়ন্ত্রিত পিচিংয়ের মাধ্যমে প্রথম বেশ কয়েকটি ইনিংস ভেনেজুয়েলা দল যখন মার্কিনিদের মাত্র তিনটি হিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে, তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় ম্যাচের গতিপথ। কিন্তু মার্কিন দল হার মানতে রাজি ছিল না। অষ্টম ইনিংসে দুই আউটের পর ব্যাট হাতে এলেন ব্রাইস হার্পার। তার দুই রানের হোম রান ম্যাচের স্কোর সমান করে দেয় ২-২।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল আরও উত্তেজনাপূর্ণ। নয় নম্বর ইনিংসে ভেনেজুয়েলা দল যখন রান স্কোরিং পজিশনে একজন ব্যাটসম্যানকে পাঠায়, তখনই খেলার মোড় ঘুরে যায়। ইউজেনিও সুয়ারেজের বেস হিটের মাধ্যমে তারা এক রানের লিড নেয় ৩-২। এরপর ভেনেজুয়েলা দলের বোলাররা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ম্যাচের দখল। ফলে বিশ্ব বেসবল ক্লাসিকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ভেনেজুয়েলা। হার স্বত্ত্বেও হার্পার ছিলেন শান্ত ও সংযত। সিলভার মেডেল গ্রহণ করার পর তিনি সরাসরি গিয়ে ভেনেজুয়েলা দলের সদস্যদের সাথে হ্যান্ডশেক করেন। এই একটিমাত্র মুহূর্তই তাকে করেছে অনন্য ও অনুকরণীয়।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক মাধ্যমে হার্পারের এই উদারতা ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় তার প্রশংসার জোয়ার। ভক্তরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এমন বহু বার্তা দিয়ে। একজন ফ্যান লিখেছেন, “হার্পারের এই উদারতা সত্যিই অনুকরণীয়। তিনি খেলোয়াড় হিসেবে যেমন প্রতিভাবান, তেমনই মানবিকও। মার্কিন দলের পক্ষে কাগজে কলমে অনেক বেশি প্রতিভা থাকলেও হার মানতে হয়েছে।” অন্য একজন বলেছেন, “ব্রাইস সব সময়ই একজন ভাল মানুষ ছিলেন। তাঁর এই উদারতা সত্যিই প্রশংসনীয়।” আরও একজন মন্তব্য করেছেন, “খেলাধুলায় এমন খেলোয়ারসুলভ মনোভাব বিরল। হার্পারের জন্য গর্বিত।” সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই বার্তাগুলো স্পষ্ট করে দেয় হার্পার কেন খেলাধুলার বিশ্বে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।
যদিও পুরো টুর্নামেন্টে হার্পারের ব্যাটিং ফর্ম তেমন আশানুরূপ ছিল না—তিনি শেষ করেন মাত্র .২১৪ ব্যাটিং গড় ও .২৬৭ অন-বেস পার্সেন্টেজ নিয়ে—তবুও ফাইনাল ম্যাচে তার উপস্থিতিই ছিল দলের জন্য একমাত্র আলোকবর্তিকা। তার এই অসাধারণ প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে বেসবলে কোনও দলই দুর্বল নয়, কারণ যেকোনও রাতে যেকোনও দল জয় পেতে পারে। হার স্বত্ত্বেও হার্পারের উদারতা আর মানবিকতা দিনশেষে তাকে করেছে অনন্য ও অনুকরণীয়।
এই ম্যাচের পর হার্পারের প্রতি বিশ্ববাসীর সমর্থন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলাধুলার ইতিহাসে এমন উদারতা বিরল। হার্পারের এই মনোভাব শুধু মার্কিন সমর্থকদের কাছেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ভক্তদের কাছেও প্রশংসার উদ্রেক করেছে। খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই খেলোয়ারসুলভ মনোভাবও যে সমান গুরুত্ব বহন করে, তা হার্পারের মাধ্যমেই আবারও প্রমাণিত হলো।
মন্তব্য করুন