২০২৫ সালের জুন মাসে বিখ্যাত অভিনেত্রী ডেনিস রিচার্ডস তার মুখ ও ঘাড়ের ফেসলিফ্টের আগে ও পরে ছয়টি ভিন্ন কোণ থেকে তোলা ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে তার মুখে বিভিন্ন রঙিন রেখা, যা সম্ভবত তার সার্জন কর্তৃক চিহ্নিত করা ছেদ এবং পুনর্নির্মাণের স্থান। অপারেশন পরবর্তী ছবিগুলোতে তিনি নিজের মতোই রয়েছেন, তবে তার চামড়া আরও টানটান, চোখ আরও উজ্জ্বল এবং মুখ আরও প্রাণবন্ত দেখাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ডেনিস রিচার্ডস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণভাবে আমার নিজের জন্য। আমি নিজেকে বদলাতে চাই না, বরং আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে চাই।’ তার এই প্রকাশ্য স্বীকৃতি ফেসলিফ্টের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকেই তুলে ধরে। এখন মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে এই ধরনের পদ্ধতির প্রতি। বিশেষ করে যারা জেনারেশন এক্স-এর অন্তর্গত, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অ্যামেরিকান সোসাইটি অফ প্লাস্টিক সার্জন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ফেসলিফ্ট ছিল অন্যতম ট্রেন্ডিং সার্জারি। অ্যাসপিএস-এর প্রেসিডেন্ট ডক্টর বব বাসু জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসলিফ্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে অনেকেই এমন ধরনের সার্জারির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন যারা আগে কখনও বিবেচনা করতেন না।’
এই প্রবণতার পেছনে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব অনস্বীকার্য। ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানুষ তাদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করছে, যা অন্যদেরকে উৎসাহিত করছে। এমনকি গ্লিপি-ওয়ান ওষুধের কারণে ওজন কমার ফলে মুখের চামড়া ঢিলে হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ফেসলিফ্টের দিকে ঝুঁকছেন। ডক্টর বাসু বলেন, ‘এখন অনেকেই বলছেন যে তারা নিজেদেরকে আগের মতো দেখতে চান, নতুন কিছু নয়।’
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে ফেসলিফ্ট একটি জটিল সার্জারি এবং এটি অবশ্যই অভিজ্ঞ ও সERTিফাইড সার্জনের মাধ্যমে করাতে হবে। সাধারণত এই ধরনের সার্জারির খরচ হয় প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে, তবে অভিজ্ঞ সার্জনের দ্বারা করালে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ফলাফল সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর স্থায়ী হয়।
ডেনিস রিচার্ডসের মতো অনেকেই এখন নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে দ্বিধাবোধ করছেন না। এমনকি নিউ ইয়র্কের এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সুসান ডিলিওও স্বীকার করেছেন যে তিনি ফেসলিফ্ট করিয়েছিলেন নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য। তিনি বলেন, ‘আমি এটি নিজের জন্য চেয়েছিলাম, তবে এটি আমার কর্মজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
মন্তব্য করুন