যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মার্চ মাসের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে। ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতি ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে চাকরির বাজার দুর্বল হলেও মুদ্রাস্ফীতির হার সরকার নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়ে গেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিশ্ববাজারে শক্তির সরবরাহে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এর ফলে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালনে ৩ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চাকরির বাজারেও রয়েছে চাপের ছাপ। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, যার ফলে কর্মসংস্থানের হার ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। যদিও সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি জরুরি, তবে এআই প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পাওয়েল। তিনি জানান, যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাবে। তবে এ বছর শেষ হওয়ার আগেই অন্তত একটি সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ফেড প্রধান।
পাওয়েলের নেতৃত্বকাল শেষ হতে চললেও তিনি ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত উত্তরসূরি কেভিন ওয়ার্শের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় পাওয়েল অন্তত মে মাস পর্যন্ত চেয়ার পদে বহাল থাকতে পারেন। তিনি বলেছেন, ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
এপ্রিল মাসের বৈঠকে সুদের হার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রাস্ফীতি, চাকরির বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোর দিকে আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। যদিও এ নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, তবে চলতি বছরের শেষ দিকে অন্তত একটি সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাওয়েল। অর্থনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ফেডারেল রিজার্ভের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
মন্তব্য করুন