২০২৬ সালের মার্চ মাসের দ্বিতীয় ফেডারেল রিজার্ভ বৈঠক আজ মার্কিন অর্থনীতির ক্রান্তিকালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে। এই বৈঠকের আগে মার্কিন অর্থনীতিতে একাধিক নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হতাশাজনক কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সিএমই ফেডওয়াচ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে ফেড সুদের হার স্থিতিশীল রাখতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করলেও কর্মসংস্থান বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফেডের দ্বৈত লক্ষ্যমাত্রা—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান—এর মধ্যে ভারসাম্য রাখা নিয়ে আলোচনা চলছে।
গত জানুয়ারির বৈঠকে ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েল বলেছিলেন, “২০২৫ সালে মার্কিন অর্থনীতি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং ২০২৬ সালে প্রবেশ করেছে দৃঢ় অবস্থানে। যদিও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কম থাকলেও বেকারত্বের হার কিছুটা স্থিতিশীল এবং মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা উচ্চই রয়ে গেছে।” তবে তেলের দামের দ্রুত বৃদ্ধি নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
গত মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে শ্রম বিভাগের প্রতিবেদনে প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঘটনা, সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ ট্যারিফ ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা এবং ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ফেডের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ফেডের আগের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে। এরপর থেকে মার্কিন অর্থনীতিতে একাধিক পরিবর্তন ঘটেছে। শ্রম বিভাগের প্রতিবেদনে কর্মসংস্থান হারানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকাংশ ট্যারিফ ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে, যা বিশ্বব্যাপী শক্তি সরবরাহকে ব্যাহত করেছে। এই সমস্ত ঘটনা ফেডের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তকে আরও সংকটাপূর্ণ করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন