বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় একটি খবর। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইং একাডেমিতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের যুবক-যুবতীরা স্বপ্নের পাইলট জীবনকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন।
পাইলট হওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই আছে, কিন্তু অর্থের অভাবের কারণে তা সাক্ষাত করতে পারছেন না। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফ্লাইং একাডেমিতে ক্যাডেট পাইলট হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিবে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) থেকে কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) অর্জন করবেন এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ট্রেইনি ফার্স্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিতে পারবেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বিমান পরিবহন শিল্পে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা বিগত তিন বছর ধরে এই প্রকল্পের জন্য কাজ করছেন। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লাইং একাডেমিতে বাছাইসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক-যুবতীগণ এই সুযোগটি গ্রহণ করে স্বপ্নের পাইলট জীবন শুরু করতে পারবেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়র্ক, নিউ জার্সি এবং অন্যান্য শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় সুযোগ।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানবহরে বর্তমানে ২৫টি এয়ারক্রাফট রয়েছে, এবং খুব শীঘ্রই আরো চারটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ ও এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট যুক্ত করবে। নতুন এয়ারক্রাফট সংযোজন এবং নতুন রুটের ব্যাপ্তির জন্য অতিরিক্ত পাইলটের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। এই চাহিদা পূরণের জন্য তারা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য এগিয়ে এসেছে।
যে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে ইংরেজি বিষয়ে জিপিএ ৪সহ নূন্যতম জিপিএ ৫ প্রাপ্ত হবেন এবং পদার্থ বিজ্ঞান, সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিতে কমপক্ষে দু’টি বিষয়ে জিপিএ ৫ এবং অন্যটিতে নূন্যতম জিপিএ ৪ প্রাপ্ত হবেন অথবা ‘ও’ লেভেলে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানসহ নূন্যতম ৫ বিষয়ে গ্রেড-এ অর্জন করবেন, তারা এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন। এইচএসসিতে ইংরেজি বিষয়ে জিপিএ ৪সহ নূন্যতম জিপিএ ৫ প্রাপ্ত হবেন এবং পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে কমপক্ষে একটি বিষয়ে জিপিএ ৫ এবং অন্যটিতে নূন্যতম জিপিএ ৪ প্রাপ্ত হবেন।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক-যুবতীগণ এই সুযোগটি গ্রহণ করে স্বপ্নের পাইলট জীবন শুরু করতে পারবেন এবং দেশের বিমান পরিবহন শিল্পে অবদান রাখতে পারবেন।
মন্তব্য করুন