মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসর। কিন্তু বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তার ঘন কুয়াশা। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা বিশেষত পেশোয়ারে ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, এসব গুঞ্জনে কোনো ভিত্তি নেই। পাকিস্তানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই বিদেশি খেলোয়াড়রা দেশে প্রবেশ করা শুরু করবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পিএসএল। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে পেশোয়ার অঞ্চলে ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। আফগানিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা হওয়ায় ওই অঞ্চলে ভ্রমণ নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবেও বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
কিন্তু পিসিবির একজন উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, এসব উদ্বেগ সম্পূর্ণ অমূলক। সংস্থাটি জানিয়েছে, অতীতেও এমন কঠিন পরিস্থিতিতেই তারা সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। এবারও একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষত পেশোয়ারে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পিসিবি। এছাড়া সেখানে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পিএসএলের আয়োজকরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সংস্থাটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই বিদেশি খেলোয়াড়রা পাকিস্তানে পদার্পণ করা শুরু করবেন। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের মধ্যে স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেন, অ্যাডাম জাম্পা, জশ ফিলিপ, রাইলি মেরেডিথ ও বেন ম্যাকডারমটদের মতো তারকারা অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে পুরো টুর্নামেন্টের গতি প্রকৃতি।
পিএসএলের আয়োজকদের দৃঢ় মনোভাব সত্ত্বেও বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বিশেষ করে আইপিএলের সঙ্গে পিএসএলের সময়সূচি প্রায় সমাপতিত হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী লিগের এই টানাটানিতে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ হারানো মানেই টুর্নামেন্টের জৌলুশ হারানো। ব্রডকাস্টারদের জন্য এটি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছেও এটি একটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এখন দেখার বিষয়, পিসিবির দৃঢ় বার্তা বিদেশি ক্রিকেটারদের মনোবলকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে। যদি তারা অংশগ্রহণ করতে সম্মত হন, তাহলে পিএসএলের একাদশ আসরটি হয়ে উঠবে আরও রোমাঞ্চকর। অন্যথায়, টুর্নামেন্টের মান কমে যাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে পিসিবির কর্মকর্তারা আশাবাদী যে সবকিছুই নির্ধারিত সময় ও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
মন্তব্য করুন