নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মমদানির স্ত্রী রমা দুওয়াজির সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টটি সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে। পুরনো পোস্টগুলোয় বর্ণবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পরই তার বিরুদ্ধে শুরু হয় তীব্র সমালোচনার ঝড়। জানা গেছে, কিশোরী ও যৌবনের শুরুর দিকে রমা তার একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে (@_RamaDee) ও টাম্বলারে বর্ণবিদ্বেষী শব্দ ব্যবহার এবং ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া গ্রুপের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে এমন পোস্ট করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার জেরে সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ দেখা দিলে অ্যাকাউন্টটি দ্রুতই উধাও হয়ে যায়। যদিও টাম্বলারের অ্যাকাউন্টটি এখনও দেখা যাচ্ছে, এক্স-এর অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ব্যবহারকারী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুরনো পোস্টের জবাবে মন্তব্য করতে পারলেও সম্প্রতি তা আর সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিউজউইকের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে সেই অ্যাকাউন্টের মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিউজউইক আরও জানিয়েছে যে, অন্যান্য ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলেছেন কিনা তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
এ ঘটনার সূত্র ধরে মার্কিন মিডিয়া ‘ওয়াশিংটন ফ্রি বিওন’ দাবি করেছে যে, তারা মুখমুদ্রণ প্রযুক্তির মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি রমা দুওয়াজির বলে শনাক্ত করেছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, ওই অ্যাকাউন্টে তার জন্মতারিখ, প্রিয় বিড়ালের নাম এবং তিনি যেখানে যেখানে থাকতেন বা ভ্রমণ করেছিলেন সেসব স্থান উল্লেখ ছিল। নিউইয়র্কের মেয়রের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিউজউইক সূত্রে জানা গেছে যে, নিউইয়র্ক মেয়রের অফিসকে ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে এখন তুমুল আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকে রমা দুওয়াজির বিরুদ্ধে প্রচলিত বর্ণবাদী মানসিকতার অভিযোগ তুলছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, কিশোরী বয়সের এমন কর্মকাণ্ড এখন তার ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সামাজিক মাধ্যম থেকে তার পুরনো পোস্ট মুছে ফেলার ঘটনাটিও অনেককে বিস্মিত করেছে। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কেন এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নিউইয়র্ক মেয়রের অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনাটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঘটনা নিউইয়র্কের রাজনৈতিক মহলের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো আবারও সামনে চলে আসছে।
মন্তব্য করুন