বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জ। এখানে সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় দীর্ঘ এক বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন নদীভাঙনের শিকার দশটি পরিবার। ঘরবাড়ি হারিয়ে তাঁরা খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী ছাউনি করে কোনোমতে জীবন ধারণ করছেন। তবে এবার তাঁদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভা আয়োজন করেছে ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির। ঈদের আগে তাঁদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী এবং শিশুদের জন্য নতুন পোশাক।
রহিম বাদশা ও সাদেক আলী নামের দুই প্রবীণের নেতৃত্বে এই পরিবারগুলো এক বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। রহিম বাদশা জানান, তাঁদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা ইসলামপুর থেকে পালিয়ে সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সাদেক আলীও তাঁর পরিবার নিয়ে একই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন মতলব উপজেলা থেকে। এখন তাঁরা কেউই জানেন না ভবিষ্যতে কোথায় যাবেন।
ঈদের দু’দিন আগে কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার উদ্যোগে খিলপাড়া এলাকায় আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। বিকেল তিনটার দিকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার সদস্যরা। প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া হয় পোলাওয়ের চাল, তেল, সেমাই, চিনি, দুধ, নুডলস, সাবান ও চালের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী। শিশুদের জন্য ছিল রঙিন নতুন জামা। দশ বছরের অনন্যা নতুন জামা পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে বলে, ‘আমি এটা ঈদের দিন পরব। আমার ছোট ভাইও নতুন জামা পেয়েছে।’ অন্যদিকে স্থানীয় বিউটি বেগম বলেন, ‘ঈদের সময় বাজার করা আর শিশুদের জামা কেনা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার দেওয়া সামগ্রী আমাদের জন্য খুব উপকারে আসবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি তাফসিলুল আজিজসহ বন্ধুসভার বিভিন্ন পদাধিকারীরা। বক্তারা জানান, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা এই কর্মসূচি আয়োজন করেছেন। বন্ধুসভার সভাপতি নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। এবার তাঁদের জন্য সামান্য হলেও কিছু উপহার দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি।’ সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতি ঈদে আমরা এমন কর্মসূচি আয়োজন করি।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই মিলে ইফতার করেন। ইফতার শেষে রহিম বাদশা ও সাদেক আলী কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলাম। আজ পর্যন্ত কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। প্রথম আলো বন্ধুসভার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’ তাঁদের কথায় উঠে আসে সমাজের প্রতি বন্ধুসভার দায়বদ্ধতার কথা।
সূত্র: Prothom Alo
মন্তব্য করুন