যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেশ সরব হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা আমাদের সবচেয়ে পবিত্র অধিকারগুলির অন্যতম। একে রক্ষা করা প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকের দায়িত্ব।” কিন্তু বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প তাঁর নিজের কর্মকাণ্ড ও নীতির মাধ্যমে বারবার সেই অধিকারকে পদদলিত করেছেন। তাঁর প্রশাসন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, অভিবাসন নীতির নামে ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং আদালতের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে প্রগতিশীল অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ট্রাম্পের এই প্রচারণা আসলে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের একটা হাতিয়ার মাত্র। তাঁর সরকার বারবার প্রমাণ করেছে যে, ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে তাঁদের কাছে শুধু খ্রিস্টান ধর্মের স্বাধীনতাকেই বোঝানো হয়েছে। মুসলিম, ইহুদি, নাস্তিক বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকারকে তাঁরা কখনোই সমান গুরুত্ব দেননি। এমনকি অভিবাসন নীতির মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলির নাগরিকদের প্রবেশাধিকারকে সীমিত করা হয়েছে, যা স্পষ্টভাবে ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ।
ট্রাম্পের এই দ্বিচারিতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। আন্তর্জাতিক আইনের চোখেও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলি গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি তাঁর নিজ দলের মধ্যেও অনেকে তাঁর এই নীতির বিরোধিতা করেছেন।
বাস্তবতা হলো, ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে যতটা উচ্চকিত হন, তাঁর কর্মকাণ্ড ততটাই বিভেদমূলক। তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এই দ্বিচারিতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর এই কথিত উদ্বেগ আসলে কোনো নৈতিক অবস্থান নয়, বরং ক্ষমতা দখলের একটা কৌশল মাত্র।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্মীয় স্বাধীনতা হলো প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অধিকার কারো নেই। ট্রাম্পের মতো নেতারা যখন ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন সমাজে বিভেদ ও ঘৃণার বীজ রোপিত হয়। বাস্তবিক অর্থেই, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর এই প্রচারণা শুধু মিথ্যা নয়, তা প্রকৃতপক্ষে ধর্ম ও মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাহীনতারই পরিচয় বহন করে।
মন্তব্য করুন