আর্চারসনের ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত অনলাইন রেকর্ড অনুসারে, জোসেফ ডুগারের স্ত্রী কেন্ড্রা ডুগারকে শিশু স্বাস্থ্যের বিপন্নতা এবং মিথ্যা আটকের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটে তার স্বামী জোসেফ ডুগারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার একদিন পরেই। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিটে কেন্ড্রা ডুগারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনলাইন রেকর্ড অনুযায়ী, তাকে মাত্র এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পরই ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপরদিকে, জোসেফ ডুগারের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার পানামা সিটি বিচে একটি পরিবারের সাথে বেড়াতে যাওয়ার সময় নয় বছর বয়সী এক কিশোরীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আর্চারসনের টনটিটাউনে জোসেফ ডুগারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্লোরিডার বে কাউন্টি শেরিফের অফিস থেকে প্রকাশিত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুসারে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীকে একাধিকবার যৌন হয়রানি করেছেন বলে জানা গেছে।
জোসেফ ডুগারের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে তার বড় ভাই জশ ডুগারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর আগে শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর। জশ ডুগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি তার চার বোন এবং একজন গৃহপরিচারিকার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। এই পরিবার টিএলসি চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘১৯ কিডস অ্যান্ড কাউন্টিং’-এ অংশ নিয়ে ব্যাপক খ্যাতি লাভ করেছিলেন। জশ ডুগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়।
জোসেফ ডুগারের গ্রেপ্তারের পর তার বোন জিল ডুগার ডিলার্ডের পরিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা যেকোনো ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিচ্ছি। আমরা আইনের শাসনকে সমর্থন করি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কামনা করি। এই দুঃসহ ঘটনার শিকার নিরপরাধ কিশোরী এবং তার পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই।’
এদিকে, কেন্ড্রা ডুগারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, জোসেফ ডুগারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডুগার পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার গণমাধ্যমের সামনে আসার ক্ষেত্রে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন