এক বছর আগে ইলন মাস্কের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একটি অদ্ভুত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। সেই পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে হাজার হাজার মানুষের জীবন পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন প্রকাশিত ডিপোজিশন ভিডিও থেকে জানা যায়, জাতীয় মানবিক ফাউন্ডেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফেডারেল গ্রান্ট কাটার পিছনে দুইজন কর্মকর্তা ছিলেন।
ডিপোজিশন এবং অন্যান্য মামলার সংশ্লিষ্ট দস্তাবেজ থেকে জানা যায়, ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি (ডিওজি) চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ডিভার্সিটি, ইকুইটি এবং ইনক্লুশন (ডিইআই) সম্পর্কিত গ্রান্ট শনাক্ত করে। সেই গ্রান্টগুলো পরে বাতিল করা হয়।
পূর্ববর্তী মামলার সময় ডিওজির দুই কর্মকর্তা জাস্টিন ফক্স এবং নাথান কাভানগের ডিপোজিশন থেকে জানা যায়, তারা ‘ব্যবহারহীন এজেন্সি’ কাটার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন। কাভানগের সাথে কথা বলার সময় একজন অ্যাটর্নি জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি কোনো আশ্বাস করেন না যে মানুষের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয় হারিয়ে গেছে?’ তার উত্তর ছিল, ‘না। আমি মনে করি ফেডারেল ডেফিসিট কমাতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
কিন্তু যখন অ্যাটর্নি জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি ডেফিসিট কমাতে সক্ষম হয়েছেন?’ তখন কাভানগের উত্তর ছিল, ‘না, আমরা করেনি।’ এই বিতর্কিত বিবৃতি আমাদেরকে অনেক প্রশ্নে নিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনাটি আমাদের দেশের প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক প্রবাসী তাদের দেশের সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য এই গ্রান্টগুলোতে নির্ভর করতেন। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের বাঙালি সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ধরনের গ্রান্টের মাধ্যমে তাদের পেশা বা গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতেন।
এই ধরনের গ্রান্ট কাটার ফলে অনেক মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ক্ষেত্রে কাজ করা মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই এই ধরনের প্রকল্পে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাদের দেশের সাথে সংযুক্তি বজায় রাখতেন।
এই ঘটনাটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা সমাজের জন্য অনেক ভালো হতে পারে। কিন্তু যদি তা অজ্ঞতায় বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। আমাদেরকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে এই ধরনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রভাব সম্পর্কে জানতে হবে।
মন্তব্য করুন