মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিরল এক ঘটনার মধ্য দিয়ে গড়ালো আরেকটি নতুন অধ্যায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি খোদাই করা একটি সোনার মুদ্রা তৈরির জন্য অনুমোদন দিল মার্কিন সরকারেরFine Arts কমিশন। ২৪ ক্যারেট সোনার তৈরি এই মুদ্রাটি মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির উদযাপনে ব্যবহৃত হবে। কমিশনের সদস্যরা ছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক, যাঁরা সম্প্রতি তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ভোটাভুটিতে কোনো বিরোধিতা দেখা যায়নি।
এই মুদ্রার নকশা চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে মার্কিন টাকশালে এর উৎপাদন শুরু হবে। মুদ্রাটির আকার এবং মূল্যমান এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে মুদ্রাটির সামনের দিকে ট্রাম্পের একটি প্রতিকৃতি দেখা যাবে, যেখানে তিনি স্যুট-টাই পরে মাথা সামান্য নিচু করে বসে রয়েছেন। মুদ্রার উল্টো পিঠে দেখা যাবে একটি ঈগলকে উড়তে এবং তার সঙ্গে লেখা থাকবে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ এবং ‘ই প্লুরিবাস ইউনুম’।
মার্কিন আইনে জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি মুদ্রায় ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিয়ে নতুন নিয়ম তৈরি করেছেন। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মুদ্রাটির অনুমোদন দিয়েছেন, যা স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে ট্রাম্পের প্রতিকৃতিকে মুদ্রায় স্থান দেয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেগান সুলিভান জানান, ট্রাম্প নিজেই এই নকশা নির্বাচন করেছেন।
মুদ্রাটির সামনের দিকে ‘লিবার্টি’ লেখা থাকবে এবং তার নিচে থাকবে ১৭৭৬-২০২৬ সাল। মুদ্রাটির উল্টো দিকে থাকবে একটি ঈগলের চিত্র এবং তার সঙ্গে লেখা থাকবে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ ও ‘ই প্লুরিবাস ইউনুম’। কমিশনের সদস্য চেম্বারলিন হ্যারিস জানান, এই মুদ্রাটি মার্কিন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের স্মারক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “এটি ট্রাম্পের একটি শক্তিশালী প্রতিকৃতি, যা দেশের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উপযুক্ত।”
মুদ্রাটির উৎপাদন হবে অতি সীমিত পরিসরে। এর আকার এবং মূল্যমান এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বৃহৎ আকারের জিনিস পছন্দ করেন বলে মুদ্রাটির আকারও বৃহৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন টাকশালের সর্ববৃহৎ মুদ্রাটির আকার প্রায় ৩ ইঞ্চি। তাই মুদ্রাটির আকারও সেদিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাবের আরেকটি উদাহরণ। এর আগেও তিনি নিজের নাম এবং প্রতিকৃতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মার্কিন ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল হলেও ট্রাম্পের প্রশাসন বারবার নিয়ম ভেঙে নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করছে।
মন্তব্য করুন