মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান থেকে মার্কিন সামরিক অভিযান প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ঘোষণা করেছেন। গত কয়েক মাস ধরেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলে আসছিলেন, কিন্তু এখন তিনি সরাসরি ‘ইরান থেকে কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে’র ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা অনেককে অবাক করেছে, কারণ তার পূর্ববর্তী নীতিগুলো ছিল ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের দিকে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব হ্রাস করা এবং মার্কিন জিম্মিদের মুক্তি আদায় ছিল তার প্রাথমিক যুদ্ধকালীন লক্ষ্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার অধিকাংশ উদ্দেশ্যই অপূর্ণ রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হওয়া এবং অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় ২০১৮ সালে যখন ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি হতে পারে মার্কিন নির্বাচনের আগে নিজের সমর্থকদের কাছে একটি শান্তির বার্তা হিসেবে তুলে ধরা। আবার কেউ কেউ বলছেন, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে চাইছেন ট্রাম্প, কারণ সামরিক অভিযান মার্কিন জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে এমন সময়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ দেখা দিতে পারে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্য ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরোধিতা করেছেন। তারা মনে করছেন, ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প কি তার পূর্ববর্তী যুদ্ধকালীন লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করবেন নাকি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় আসতে সক্ষম হবেন।
মন্তব্য করুন