মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অবশেষে এল সালভাডোরের কিলমার আব্রেগো গারসিয়াকে লাইবেরিয়ায় নির্বাসনের উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইবেরিয়া সরকার তার নির্বাসন গ্রহণের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ বিভাগ (আইসিই) জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যেই একটি চ্যার্টার প্লেনের ব্যবস্থা করবে, যা তাকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে পাঠাবে। তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হলে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক পলা জিনিসের অনুমতি লাগবে, যিনি ইতিমধ্যেই তার নির্বাসন স্থগিত রেখেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা শুক্রবার আদালতে একটি আবেদন পেশ করেছেন, যেখানে তারা বিচারক জিনিসকে অনুরোধ করেছেন তার জারি করা আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য। আদালতে দাখিল করা দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে, এল সালভাডোর থেকে আব্রেগো গারসিয়াকে ভুলবশত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আব্রেগো গারসিয়া দাবি করেছেন, তিনি এমএস-১৩ গ্যাংয়ের সদস্য নন, যে অভিযোগে তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আব্রেগো গারসিয়া এল সালভাডোর থেকে ফেরত আসার পর গত বছরের গ্রীষ্মে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি আব্রেগো গারসিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। কারণ তার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, বিচারক জিনিস ইতিমধ্যেই আব্রেগো গারসিয়ার আইনজীবীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে তার বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। এই স্থগিতাদেশ চলমান থাকবে যতক্ষণ না ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রচেষ্টা সম্পর্কে আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আইসিই কর্মকর্তা তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিচারক জিনিসের আদেশ প্রত্যাহার করা হলে আব্রেগো গারসিয়ার নির্বাসন প্রক্রিয়া অতিদ্রুত সম্পন্ন হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন ১৭ এপ্রিলের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
আব্রেগো গারসিয়া একজন স্যালভেডোরান নাগরিক ছিলেন, যিনি মেরিল্যান্ডে তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাকে ভুলবশত মার্চ ২০২৫ সালে এল সালভাডোরে নির্বাসিত করা হয়েছিল। তখন তাকে সেখানকার সেফোটি কারাগারে রাখার কথা ছিল, যার বিরুদ্ধে স্থানীয় আদালতের একটি আদেশ ছিল। কারণ এল সালভাডোরে গ্যাংদের হাত থেকে তার প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। তবে গত বছর গ্রীষ্মে তাকে আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয় মানবপাচারের অভিযোগে বিচারের জন্য। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
আব্রেগো গারসিয়ার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আরও বলেছেন, তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তাকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। আব্রেগো গারসিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি সফল মামলা করেছিলেন, যার ফলে তার নির্বাসন স্থগিত হয়েছিল। এখন তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনা হচ্ছে, যা তার আইনজীবীদের মতে একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
মন্তব্য করুন