যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে জড়িত উপাদানগুলো দখল বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হয়েছে। সূত্রমতে, মার্কিন সরকার ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় প্রকারের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
ইরান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের পর থেকেই এই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে বিমান হামলা, বিশেষ বাহিনীর অভিযান ও আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগ্রহের মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানও এই ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে কোনওভাবেই থামাতে দেবে না।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ চেষ্টা করছে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের ফলে পুরো অঞ্চলটি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন সরকারের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে যে, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো দখলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করছে এবং এর ফলে পুরো অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যাটির সমাধান করতে হবে, যাতে করে কোনও ধরনের সামরিক অভিযান এড়ানো যায়।
এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, শিগগিরই কোনও ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হলে তা পুরো অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য চাপ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন