বিশ্বের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টার্গেট তাদের কর্মীদের ইউনিফর্ম নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ৪ লক্ষ কর্মীর জন্য নতুন নির্দেশিকা অনুসারে এখন থেকে কর্মীরা লাল রঙের সাধারণ টিশার্ট এবং নীল জিন্স বা খাকি প্যান্ট পরতে বাধ্য থাকবেন। আগে কর্মীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী লাল রঙের টিশার্ট পরতে পারতেন, এমনকি তাতে গ্রাফিক্স বা ডিজাইনও থাকতে পারত। এছাড়া নীল জিন্স পরাও ছিল অনুমোদিত। কিন্তু এখন থেকে শুধুমাত্র সাধারণ লাল টিশার্ট এবং নির্দিষ্ট রঙের প্যান্টই গ্রহণযোগ্য হবে।
বিশ্বখ্যাত এই খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো দোকানের অভিজ্ঞতাকে আরও গ্রাহকবান্ধব এবং সুবিধাজনক করে তোলা। টার্গেটের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আমাদের দোকানগুলোর অভিজ্ঞতাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পরিচিত করে তুলছি, যাতে গ্রাহকরা সহজেই আমাদের কর্মীদের চিনতে পারেন এবং তাদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।’ তবে এই পরিবর্তনের পেছনে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি টার্গেট স্টোরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর থেকেই এই পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় একজন মহিলা কর্মীকে তার পরা একটি টিশার্টের কারণে চড়াও হন গ্রাহক। টিশার্টটিতে লেখা ছিল ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ নামে একটি দক্ষিণপন্থী সংগঠনের নাম, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কনজারভেটিভ কর্মী চার্লি কার্ক। মহিলাটি কর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি এটা কেন পরেছেন? আপনি কি বোকা? আপনি একজন বর্ণবাদীকে সমর্থন করছেন?’ এতে কর্মীটি শান্তভাবে উত্তর দেন, ‘ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমি আপনার সাথে এ নিয়ে তর্ক করতে চাই না।’ এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই কর্মীদের ইউনিফর্ম নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়।
তবে টার্গেট কর্তৃপক্ষ সরাসরি এই ঘটনার সাথে নতুন ইউনিফর্ম নীতির সম্পর্ক স্বীকার করেনি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বারবার উল্লেখ করেছে যে তারা কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান বজায় রাখতে চায়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন স্টোরে ইউনিফর্মের প্রয়োগেও ভিন্নতা দেখা যেত। কিছু স্টোরে কর্মীরা নিজেদের পোশাকের উপর লাল ভেস্ট পরতে পারতেন। এক জনপ্রিয় কর্মী অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের স্টোরে বেশিরভাগ কর্মীই সাধারণ পোশাকের উপর লাল ভেস্ট পরতেন। নিয়মগুলো স্টোরভেদে আলাদা ছিল।’
টার্গেট তাদের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালে। মিনেসোটার মিনিয়াপলিস শহরে সদর দপ্তর থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি ‘সস্তা চিক’ নামক ধারণার মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে। সম্প্রতি বিক্রয় কমে যাওয়ায় এবং ওয়ালমার্ট ও কস্টকোর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণে চাপে থাকা টার্গেট তাদের স্টোর অভিজ্ঞতা এবং গ্রাহক সেবাকে আরও উন্নত করতে চাইছে। নতুন ইউনিফর্ম নীতিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন