টাঙ্গাইল জেলা বার সমিতি তিন আইনজীবীকে সাময়িকভাবে অব্যাহত এবং একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জালিয়াতি ও নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযুক্ত আইনজীবীরা সবাই টাঙ্গাইল জজ কোর্টের নিয়মিত আইনজীবী।
বরাবরীরা হলেন এস. এম. পারভেজ শিমুল, শুকুম উদ্দিন এবং রাসেল রানা। এস. এম. পারভেজ শিমুলকে ২১ দিনের জন্য, শুকুম উদ্দিন এবং রাসেল রানাকে ১৫ দিনের জন্য অব্যাহত করা হয়েছে। এছাড়া তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার না হওয়ার কারণ ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এস. এম. পারভেজ শিমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ২০২৫ সালের ৪ জুন নাগরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। কিন্তু পরে আসামি পক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মহির উদ্দিনের সহযোগিতায় দুজন আসামির নাম বাদ দিয়েছেন। এতে আদালতের সিলমোহর ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে এলে বার সমিতিকে অবহিত করা হয়।
আইনজীবী রাসেল রানা এবং শুকুম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে নিজেরা স্বাক্ষর না করে মহুরী দিয়ে ওকালতনামা ও জামিনের দরখাস্তে স্বাক্ষর করিয়েছেন। বার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ তাদের জবাব সন্তোষজনক না পেয়ে অব্যাহত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনজীবী বজলুর রহমান মিয়াকে পত্র প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি আইন পেশার পাশাপাশি বাসাইল ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করে ২০০০ সালের ৬ জুলাই সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অবসর নেন। এতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন ও বার সমিতির গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের নৈতিকতা লঙ্ঘনের বিষয়গুলি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে আইনজীবী সমাজের নৈতিকতা ও পেশাদারীতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনজীবী সমাজের মধ্যে নৈতিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা বাংলাদেশের আইনজীবী সমাজের সাথে সরাসরি সংযুক্ত।
মন্তব্য করুন