বারো বছর ধরে একই স্কুল, একই খেলাধুলা, একই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো দুই জমজ ভাই চার্লি আর থমাস। তাদের জীবনে এমন কোনও দিন ছিল না যখন তারা একসঙ্গে থাকেনি। স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে মুদির দোকানে কাজ করা পর্যন্ত তারা সবকিছুই করেছে একসঙ্গে। এমনকি তাদের নামও একটা শব্দের মতো হয়ে উঠেছিল, সবাই তাদেরকে ‘চার্লি অ্যান্ড থমাস’ বলে ডাকত। কিন্তু জীবনে প্রথমবার তাদের মধ্যে ছয় সপ্তাহের দূরত্ব তৈরি হয় যখন থমাস ইউরোপে গেল কলেজের প্লেসমেন্টে।
থমাস তার সেরা বন্ধু ব্র্যাডকে সঙ্গে নিয়ে চার সপ্তাহের ইউরোপ ভ্রমণে বের হল। চার্লি রইল নিজের জায়গায়। বাবা হিসেবে থমাসের বাবা তার ছেলের জন্য দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে না থাকলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ কমে যাবে। কিন্তু যা ঘটল তা তার ধারণার চেয়েও বেশি বিস্ময়কর। থমাস ইউরোপে থাকাকালীন ছয় সপ্তাহে চার্লির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল একেবারেই নগণ্য। থমাস তার বাবাকে প্রতিদিন কিছু না কিছু বার্তা পাঠালেও চার্লির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল মাত্র একবার। সেই বার্তাটিও ছিল খুব সাধারণ—অর্থাৎ তাদের খেলাধুলার একাউন্ট থেকে কিছু বাজি ধরার অনুরোধ। চার্লি সেই অনুরোধ রাখেনি। আর চার্লি থমাসকে কোনও ছবিও দেখাতে চাইত না। এমনকি থমাস যখন ইউরোপ থেকে ফিরে এল, চার্লি তার সঙ্গে সামান্য আলাপও করেনি।
কিন্তু সেই ছয় সপ্তাহের দূরত্বের মধ্যেও চার্লির মন থেকে থমাস হারিয়ে যায়নি। একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে চার্লি নিজেই অ্যামস্টারডামে থমাসের দেখা একটা অ্যাজাক্স ম্যাচের স্কোর চেক করেছিল। কারণ সে জানত, থমাস সেই ম্যাচটা দেখতে গিয়েছিল। এই ঘটনা থমাসের বাবাকে বুঝিয়ে দিল যে দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গতার কোনও অভাব নেই। বারো বছর ধরে একসঙ্গে থাকা দুজন মানুষের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বার্তা বা ছবি আদান-প্রদান করার প্রয়োজন নেই। তাদের মধ্যে এমন এক বন্ধন আছে যা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না।
থমাস যখন দেশে ফিরল, চার্লি তাকে স্বাভাবিকভাবেই স্বাগত জানাল। থমাস তার জন্য নিয়ে এল ভোল্ফসবার্গ নামের একটা টুপি, যা চার্লির প্রিয় ইউরোপীয় দলের প্রতীক। চার্লি মুখে স্বাভাবিকভাবেই বলল, ‘ঠিক আছে’, কিন্তু তার চোখেমুখে যে আনন্দটা ফুটে উঠেছিল তা লুকানো ছিল না। ছয় সপ্তাহের দূরত্ব তাদের আলাদা করতে পারেনি। তারা আবার একই স্কুলে, একই মুদির দোকানে কাজ শুরু করল। তাদের জীবনে আবার নতুন করে শুরু হল একসঙ্গে থাকার দিনগুলো।
এই ঘটনা শুধু দুই ভাইয়ের সম্পর্কেরই নয়, আমাদের সবার কাছেই একটা শিক্ষা। জীবনে দূরত্ব যতই তৈরি হোক না কেন, অন্তরঙ্গতা আর বিশ্বাসের বন্ধন কখনও ছিন্ন হয় না। দুই ভাইয়ের ছয় সপ্তাহের দূরত্ব প্রমাণ করে দেয় যে প্রকৃত বন্ধনকে কোনও দূরত্বই বিচ্ছিন্ন করতে পারে না।
মন্তব্য করুন