বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকপাত করেছেন। গত সোমবার রাতে প্রকাশিত এক আবেগঘন পোস্টে তিনি তাঁর চল্লিশোর্ধ্ব জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। পোস্টটির শুরুতেই তিনি লিখেছেন, ‘এটা আমার জীবনের দ্বিতীয় সেরা বছর—ক্যারিয়ারের দিক থেকে। আলহামদুলিল্লাহ। কী দারুণ একটা সময়ই না কাটছে!’ তাঁর এই উক্তি তাঁর চলমান কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি গভীর আস্থা ও উৎসাহেরই বহিঃপ্রকাশ।
বাঁধন তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের কথা খুবই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি অনেক কিছু দেখেছি। এমন সব অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গিয়েছি, যা আমাকে এমনভাবে গড়ে তুলেছে, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। সব অভিজ্ঞতা সুন্দর ছিল না—কিছু ছিল ভীষণ কষ্টের, কিছু ছিল ভাঙনের। তবু আমি প্রতিটা মুহূর্ত টিকে গেছি।’ তাঁর এই কথাগুলো তাঁর জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করার অদম্য মনোবলেরই পরিচয় বহন করে।
অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিচালকদের বিশ্বাস ও সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে তিনি ভুলেননি। তিনি বলেন, ‘যেসব পরিচালক আমার ওপর ভরসা রেখেছেন, আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছেন—তাঁদের প্রতি আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার ছিল।’ তাঁর এই কথাগুলো তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল নির্মাতাদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও ভালোবাসারই প্রতিফলন।
চল্লিশ বছর বয়স পার হওয়ার পর জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এটাই জীবন। আর আজ আমি বলতে পারি—আমি জীবনকে ভালোবাসি। ৪০-এর পর মনে হচ্ছে, এটা যেন এক নতুন শুরু—একটা শক্তিশালী, নির্ভীক শুরু।’ তাঁর এই উক্তি তাঁর জীবনের প্রতি নতুন উদ্যম ও উৎসাহেরই পরিচয় বহন করে। তিনি আরও বলেছেন, ‘আর আমি নিজেকে কথা দিচ্ছি—এই জীবনে আমি পুরোপুরি বাঁচব, গভীরভাবে অনুভব করব, আর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করব।’ তাঁর এই প্রতিজ্ঞা তাঁর জীবনের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে বাঁধনের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর এই আবেগঘন পোস্টটি তাঁর কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি তাঁর অটল বিশ্বাস ও ভালোবাসারই পরিচয় বহন করে। তাঁর এই কথাগুলো তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করার সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তাঁর এই উক্তিগুলো তাঁর ভক্তদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়।
মন্তব্য করুন