বর্তমানে মানুষের জীবনে ভ্রমণের গুরুত্ব অনেক। আর সেই ভ্রমণ যদি হয় নিজের দেশের বিভিন্ন শহরে, তাহলে তা হয়ে উঠতে পারে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো প্রদেশে একাই ভ্রমণ করেছেন এমিলি হার্ট। তিনি বলেন, কোনো শহরকে ভালোভাবে জানতে হলে গাড়ি নয়, পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখাই উত্তম। তার মতে, কিছু শহর এমন রয়েছে যেখানে গাড়ি ছাড়াই পুরোপুরি নিজেকে সেই শহরের সঙ্গে একাত্ম করে নেওয়া যায়। এমিলি হার্টের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন সাতটি শহর রয়েছে যেখানে গাড়ি ছাড়াই পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়ানো সম্ভব।
এই সাতটি শহরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার কারমেল-বাই-দ্য-সি। এমিলি হার্ট বলেন, এই শহরটি যেন এক জীবন্ত স্বপ্নপুরী। ছোট্ট শহরটির রাস্তাগুলো খুবই শান্তিপূর্ণ, যেখানে গাড়ির চেয়ে মানুষের চলাচলই বেশি। শহরের রাস্তাগুলো এমনভাবে সাজানো যে মনে হয় যেন কোনো রূপকথার রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, নিউ ইয়র্ক শহরের মতো জনবহুল শহরেও গাড়ি ছাড়াই পুরোপুরি ঘুরে বেড়ানো যায়। শহরের গ্রিড সিস্টেম এবং ব্যাপক পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা থাকার কারণে গাড়ির প্রয়োজনই পড়ে না। এমনকি গাড়ি থাকলে তা ট্রাফিক জ্যামের কারণে সময় নষ্ট করবে বেশি।
এমিলি হার্টের প্রিয় শহরগুলির মধ্যে অন্যতম হল শিকাগো। তিনি বলেন, শিকাগো শহরের সমতল ভূখণ্ড এবং কার্যকরী পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা থাকার কারণে শহরটি হেঁটে ঘুরে দেখাটা খুবই সহজ। শহরের বিভিন্ন স্থাপত্যকলা আর মিলেনিয়াম পার্কের সৌন্দর্য উপভোগ করতে তিনি প্রায়ই হেঁটে বেড়ান। তিনি আরও বলেন, ভারমন্টের বার্লিংটন শহরটি তার কাছে সবচেয়ে হেঁটে ঘুরে দেখার জন্য আদর্শ বলে মনে হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত চার্চ স্ট্রিট মার্কেটপ্লেস এমনভাবে তৈরি যে সেখানে গাড়ি প্রবেশই করতে পারে না। শহরের চারপাশে লেক চ্যাম্পলেইন আর দূরে পর্বতমালা দেখতে দেখতে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় যেন কোনো পোস্টকার্ডের মধ্যে প্রবেশ করেছেন।
এমিলি হার্ট বলেন, নিউ অর্লিন্স শহরের সংস্কৃতি পুরোপুরি উপভোগ করতে হলে গাড়ি ছাড়াই ঘুরে বেড়ানো প্রয়োজন। শহরের মিশ্র সংস্কৃতি, সঙ্গীত, খাবার আর স্থাপত্য সবকিছুই যেন নিজের চোখে দেখা দরকার। সম্প্রতি তার নিউ অর্লিন্স সফরে তিনি কোনো গাড়ি ভাড়া নেননি। পরিবর্তে তিনি হেঁটে ঘুরেছেন এবং সিটি পার্ক আর বোটানিক্যাল গার্ডেনে যাওয়ার জন্য ঐতিহাসিক ট্রাম নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কলোরাডোর বোল্ডার শহরে তিনি থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মূলত এর হাঁটাচলার সুবিধার কারণে। শহরের পার্ল স্ট্রিট মল থেকে শুরু করে চটাউকুয়া ট্রেইল পর্যন্ত সবকিছুই তিনি হেঁটে যেতে পারেন। এমনকি তার শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি পাহাড়ের ট্রেইলে যেতে পারেন।
এমিলি হার্টের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার হিল্ডসবার্গ শহরটিও হেঁটে ঘুরে দেখার জন্য আদর্শ। তিনি বলেন, শহরটি ছোট হওয়ার কারণে একদিনেই পুরোটা ঘুরে দেখা সম্ভব। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ডাউনটাউন প্লাজা চারপাশে রয়েছে ওয়াইন টেস্টিং রুম, ওয়াইন বার, সুন্দর হোটেল, আর্ট গ্যালারি আর ফুটপাতের ক্যাফে। তিনি বলেন, স্পার্কলিং ড্রিংকসের জন্য হিল্ডসবার্গ বাবল বার আর আরামদায়ক থাকার জন্য হর্মোন গেস্ট হাউস তার প্রিয় স্থান। সর্বশেষ তিনি উল্লেখ করেন, কারমেল-বাই-দ্য-সি শহরের স্টিলওয়েল হোটেল, নিকোলাস নামক রেস্তোরাঁ আর বামেল নামক ককটেল বার তার খুবই প্রিয় জায়গা।
মন্তব্য করুন