প্রযুক্তির জগতে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মাঝে নিজেদের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বখ্যাত অনলাইন হোয়াইটবোর্ড প্ল্যাটফর্ম মিরো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ড্রে খুসিদ সম্প্রতি ওয়েব সামিট ২০২৫-এর একটি প্যানেল আলোচনায় জানিয়েছেন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত বাজেটকে তারা এখন এআই সরঞ্জামের জন্য ব্যবহার করছেন। তার মতে, এ ধরনের ব্যয়কে শুধু ব্যয় হিসেবে না দেখে তা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। খুসিদ বলেন, “আমাদের শিক্ষণ ও উন্নয়ন বাজেটের অংশ হিসেবে এআই ব্যবহারে কোনো সীমারেখা নেই। কর্মীরা যাতে সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত শিখতে ও কাজ করতে পারেন, সেজন্যই এ পদক্ষেপ।”
মিরো প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সাল থেকে লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তারা এআই সরঞ্জামের উপর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খুসিদ জানান, এখন পর্যন্ত তাদের মোট তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের আরও মূলধনের প্রয়োজন নেই। কর্মীদের নিজেদের সময় বা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় না করে কোম্পানির মধ্যেই এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছেন খুসিদ। তার মতে, যেকোনো সরঞ্জাম ব্যবহারের আগে অবশ্যই এর ব্যবসায়িক সুবিধা যাচাই করতে হবে।
বর্তমান প্রযুক্তি জগতে এআই ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম জেলিফিশ-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতকরা ৬৪ ভাগ প্রতিষ্ঠান তাদের কোডিং-এর বেশিরভাগ কাজেই এআই-এর সাহায্য গ্রহণ করছে। গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা কর্মীদের এআই ব্যবহারের উপর আরও বেশি জোর দিচ্ছে। এমনকি মাইক্রোসফট কর্মীদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে এআই দক্ষতা হয়ে উঠছে একটি অত্যাবশ্যকীয় দক্ষতা।
তবে খুসিদ মনে করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাই এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভুল প্রশ্ন করছেন। তারা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি বা সরঞ্জামের ব্যয়ের উপর ভিত্তি করে এর কার্যকারিতা বিচার করছেন। কিন্তু মিরোর ক্ষেত্রে তারা প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক গতিবেগ বৃদ্ধির উপর বেশি জোর দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্পগুলোকে “আবিষ্কার, সংজ্ঞায়িত, বিতরণ” নামে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে তা পর্যবেক্ষণ করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো এই প্রক্রিয়াটির সময়কাল যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। খুসিদ বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উদ্ভাবনের গতি। যদি আপনি যথেষ্ট দ্রুত উদ্ভাবন করতে না পারেন, তাহলে আপনি প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যাবেন।”
খুসিদ স্বীকার করেন যে, বর্তমান সময়ে কোম্পানিগুলো যেভাবে এআই ব্যবহার করছে তা চূড়ান্ত নয়। তিনি মনে করেন, এ বিষয়ে একটি স্থিতিশীল রূপ পেতে আরও অন্তত এক বছর সময় লাগবে। এরপরেই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরঞ্জামের মূল্যায়ন করতে পারবে। তবে বর্তমান সময়েই মিরো তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং, পণ্য উন্নয়ন ও ডিজাইন বিভাগে সময় সাশ্রয়ের সুফল পেতে শুরু করেছে। যদিও তিনি উল্লেখ করেন যে, কোড পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এখনও কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে। কারণ মানুষকেই সেই কোড পড়তে হচ্ছে। খুসিদ বলেন, “এটা এখনও মানুষের উপরই নির্ভরশীল।”
মন্তব্য করুন