মার্চ ম্যাডনেসের অন্যতম উত্তেজনাকর মুহূর্তে কানাডিয়ান সম্প্রচার মাধ্যম টিএসএন (TSN) দর্শকদের কাছে এক চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ালো। উত্তর ক্যারোলিনা টার হিলস এবং ভিসিআই আরামসের মধ্যে অনির্ধারিত শেষ মুহূর্তে খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও টিএসএনের ঘোষণা অনুযায়ী, খেলাটি হঠাৎ কিউরলিংয়ের মহিলাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। ফলে দর্শকরা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
খেলাটি যখন টাই অবস্থায় ছিল, তখন দুই সেকেন্ড বাকি থাকতেই বলটি আউট অফ বাউন্ডসে চলে যায়। টিএসএনের স্টুডিও উপস্থাপক তখন ঘোষণা করেন, “এই খেলাটির অতিরিক্ত সময় দেখতে চাইলে টিএসএন৪ চ্যানেলে চলে আসুন, কারণ আমরা হয়তো অতিরিক্ত সময় দেখাবো। কিন্তু এখন আমরা সরাসরি কিউরলিংয়ের মহিলাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রচার করব।” যদিও খেলাটি পরে টিএসএন৪-এ সরানো হয়েছিল, তবুও বেশিরভাগ সাধারণ দর্শকের কাছে সেই চ্যানেলটির অ্যাক্সেস ছিল না। ফলে তারা খেলাটির অতিরিক্ত সময় দেখতে পারেননি। অনেক দর্শকই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও সামাজিক মাধ্যমে বেশিরভাগ মানুষই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, তবে কানাডিয়ান কিউরলিং প্রেমীরা টিএসএনের পক্ষ নিয়েছেন, কারণ তাদের মতে কিউরলিংয়ের রেটিং টিএসএনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার ফলে মার্চ ম্যাডনেসের দর্শকরা যেমন হতাশ হয়েছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দর্শকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে সম্প্রচার মাধ্যমের দর্শকদের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে। অনেক দর্শকই মনে করছেন, ক্রীড়া ইভেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সম্প্রচার মাধ্যমের উচিত ছিল খেলাটি সম্পূর্ণ দেখানো। অন্যদিকে টিএসএন কর্তৃপক্ষের যুক্তি হলো কিউরলিংয়ের জনপ্রিয়তা তাদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, যা তাদের বিজ্ঞাপন ও দর্শকসংখ্যার পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়।
যদিও টিএসএন দাবি করেছে যে তারা দর্শকদের সুবিধার্থে খেলাটি অন্য চ্যানেলে সরিয়ে নিয়েছে, তবুও অনেক দর্শকই মনে করছেন যে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। কারণ বেশিরভাগ দর্শকের কাছে অতিরিক্ত চ্যানেলে অ্যাক্সেস ছিল না। ফলে খেলাটির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি তারা উপভোগ করতে পারেননি। এই ঘটনা ক্রীড়া দর্শকদের মধ্যে সম্প্রচার মাধ্যমের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতামতও ভিন্ন। কেউ কেউ মনে করেন, ক্রীড়া ইভেন্টের রেটিং বাড়াতে সম্প্রচার মাধ্যমগুলো প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অন্য ইভেন্ট প্রচার করে থাকে। কিন্তু এতে দর্শকদের হতাশা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আবার কেউ কেউ মনে করেন, দর্শকদের প্রতি সম্প্রচার মাধ্যমের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। কারণ ক্রীড়া দর্শকরা তাদের সময় ও মনোযোগ দিয়ে সেই ইভেন্টকে সমর্থন করেন।
মন্তব্য করুন