টুইটারের নতুন নাম ‘এক্স’ হলেও এলন মাস্কের নেতৃত্বে প্ল্যাটফর্মটি এখনও তার স্বেচ্ছাচারী ও অনির্দেশ্য আচরণের জন্যই সমালোচিত। সম্প্রতি মাস্ক তাঁর পণ্য প্রধান নিকিতা বিরকে নিয়োগ করেছিলেন একটি বৈপ্লবিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য – যার উদ্দেশ্য ছিল টুইটারের মতো এক্স প্ল্যাটফর্মে ট্রলদের প্রভাব কমানো। বিরের পরিকল্পনা ছিল এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা, যার মাধ্যমে যারা এক্সে অর্থ উপার্জন করেন, তাদের নিজ দেশ বা আশেপাশের দেশের বিষয় নিয়ে লেখার জন্য উৎসাহিত করা হবে। এতে মার্কিন রাজনীতি বা অন্যান্য দেশের বিষয়ে বিষাক্ত বা উত্তেজনাকর পোস্টের মাধ্যমে দর্শকদের প্রভাবিত করা কঠিন হয়ে উঠত।
কিন্তু মাস্কের কাছ থেকে আসা একটি হস্তক্ষেপে বিরের পরিকল্পনা থেমে গেল। মঙ্গলবার বির তাঁর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেও বুধবার সকালেই মাস্ক নিজেই ঘোষণা দেন যে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। বির তাঁর পরিকল্পনার সমর্থনে এক্সে নিজেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মার্কিন রাজনীতির দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করা এবং অন্যান্য দেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু মাস্কের সিদ্ধান্তে বিরকে তাঁর পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসতে হলো।
মাস্ক ও বিরের মধ্যে যোগাযোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বির তাঁর পরিকল্পনা ঘোষণা করার আগে অবশ্যই মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, তবে মাস্ক যেকোনও সময় তাঁর মন পরিবর্তন করতে পারেন। এর আগেও মাস্ক তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে জনসমক্ষে আনতে চলেছেন, যার ফলে এক্স-এর ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু মাস্ক যেভাবে এক্সকে তাঁর ব্যক্তিগত খেলনা হিসেবে ব্যবহার করছেন, তা তাঁর যেকোনও সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলছে।
বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্ক যখন স্পেসএক্সকে জনসমক্ষে আনবেন, তখন এক্স-এর আয়ের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। কিন্তু মাস্কের এই অনির্দেশ্য আচরণের কারণে এক্স-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। তাঁর অতীতের সিদ্ধান্তগুলো যেমন বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতি তাঁর বৈরী মনোভাব থেকে শুরু করে অর্থ উপার্জনের নতুন মাধ্যম হিসেবে সাবস্ক্রিপশন মডেল চালু করার প্রচেষ্টা – সবকিছুই প্রশ্নের মুখে।
বিরের পরিকল্পনা এক্স-এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন যে এটি এক্সকে আরও স্বাস্থ্যকর ও গঠনমূলক আলোচনার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। কিন্তু মাস্কের হস্তক্ষেপে সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত। এক্স-এর মতো বিশাল প্ল্যাটফর্মের মালিকানা নেওয়া এবং তার পরেও এমন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কারও জন্য কঠিন হতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
মন্তব্য করুন