গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত এনভিডিয়ার বার্ষিক জিটিসি সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটি নতুন শব্দ—‘টোকেন’। এনভিডির প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বারবার উল্লেখ করেছেন যে ভবিষ্যতে টোকেনই হবে ব্যবসায়িক খরচের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের কম্পিউটারগুলো হবে ‘উৎপাদন যন্ত্র’, যা টোকেন তৈরি করবে। এমনকি তিনি কর্মীদের জন্য ‘টোকেন বাজেট’ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে টোকেনভিত্তিক পারিশ্রমিকের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
টোকেন আসলে কী? সহজ কথায়, টোকেন হলো পাঠ্যের একক—একটি শব্দ বা শব্দাংশ। একেকটি শব্দকে এক বা একাধিক টোকেনে ভাগ করা যায়। সাধারণত চারটি অক্ষরের সমান একটি টোকেন ধরা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি তিনটি টোকেনে বিভক্ত হতে পারে—‘বাং’, ‘লা’, ‘দেশ’। বড় ভাষা মডেল যেমন চ্যাটজিপিটি বা ক্লড যখন কোনো ব্যবহারকারীকে উত্তর দেয়, তখন তারা প্রক্রিয়াকৃত এবং উৎপাদিত টোকেনের সংখ্যার ভিত্তিতে চার্জ করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারভিত্তিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়, যা প্রচলিত সাবস্ক্রিপশন মডেল থেকে আলাদা।
হুয়াং তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রকৌশলীরা তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ‘টোকেন বাজেট’ পাবেন। এমনকি তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের বছরের অর্ধেক বেতনের সমান টোকেন দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে টোকেন উৎপাদনের খরচ সময়ের সাথে কমে আসবে। তিনি বলেন, ‘যদি প্রতিদিনের টোকেন খরচ হিসেবে একশো ডলারও যুক্ত হয়, তবু আমি খুশি। এমনকি ব্যস্ত সময়ে এক হাজার ডলারও খরচ করতে রাজি।’
বর্তমানে প্রযুক্তি শিল্পে ‘এজেন্টিক এআই’-এর উত্থান ঘটছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। হুয়াং মনে করেন, এই ধরনের এআই এজেন্টরা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলতে পারবে বলে টোকেন ব্যবহারের পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ল্যাপটপগুলো বেশিরভাগ সময় নিষ্ক্রিয় থাকে, কিন্তু ভবিষ্যতে কম্পিউটারগুলো চব্বিশ ঘণ্টা টোকেন তৈরিতে ব্যস্ত থাকবে।’
টোকেনভিত্তিক অর্থনীতি শুধু এনভিডিইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও এখন কর্মীদের নিয়োগের সময় ‘কম্পিউট খরচ’ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতনের অংশ হিসেবে টোকেন অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ভাবছে। হুয়াং-এর মতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্বয়ংক্রিয়তা টোকেন ব্যবহারের মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠবে। ফলে ব্যবসায়ীরা টোকেনকে ভবিষ্যতের ‘ডিজিটাল অর্থনীতি’র এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
মন্তব্য করুন