পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ডার্ক-থ্রিলার ঘরানার চলচ্চিত্র ‘রাক্ষস’ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিনেতা সিয়াম আহমেদের অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। নির্মাণ দলের দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অভিনেতার নতুন রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়ছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। ঈদের প্রথম দিন মাত্র চৌদ্দটি শো নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শন শুরু হলেও দর্শকদের প্রবল চাহিদার কারণে তা দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম তিন দিনেই চলচ্চিত্রটি অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। দর্শকদের অনুরোধের মুখে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ চলচ্চিত্রটির শো সংখ্যা ইতিমধ্যে বিশটির বেশি পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রযোজক শাহরিন আক্তার জানান, ‘ক্রমেই রাক্ষস নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই শো সংখ্যা বাড়াতে হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে বিশাল সাফল্য বয়ে আনবে।’
চলচ্চিত্রটির পরিচালক মেহেদী হাসান এর আগে ‘বরবাদ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা শাকিব খান। ‘রাক্ষস’ সেই একই ইউনিভার্সের অংশ বলে নির্মাতা জানিয়েছেন। চলচ্চিত্রটিতে সিয়াম আহমেদের বিপরীতে রয়েছেন কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়াও আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও কয়েকজন অভিনেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটির বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক।
তথ্যমতে, ‘রাক্ষস’ নির্মাণ করেছে রিয়েল এনার্জি নামের প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির আগের নির্মাণ ‘বরবাদ’ ছিল ব্যবসায়িকভাবে অত্যন্ত সফল একটি চলচ্চিত্র। সেই অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাতারা ‘রাক্ষস’ নিয়ে বিশেষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে। নির্মাতাদের বিশ্বাস, চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হবে।
চলচ্চিত্রটির ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সিয়াম আহমেদের অভিনীত নতুন চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকে একে তাঁর ক্যারিয়ারে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। চলচ্চিত্রটির গল্প ও নির্মাণশৈলী নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশংসা শুরু হয়েছে। নির্মাতা মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রটির গল্প অত্যন্ত চমকপ্রদ ও রোমাঞ্চকর। দর্শকদের কাছে এটি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রজগতে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে ‘রাক্ষস’। দর্শকদের মধ্যে এর প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টার সিনেপ্লেক্স ছাড়াও অন্যান্য সিনেপ্লেক্সেও চলচ্চিত্রটির প্রদর্শন শুরু হয়েছে। নির্মাতা ও প্রযোজকরা আশা করছেন, চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যাপক সফলতা লাভ করবে। সেই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন