ঈদের আগের দিন বুধবার রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চঘাট পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। দোতলা-ত্রিতলা লঞ্চগুলির সামনে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। কেউবা আগেভাগে এসে সিট নিশ্চিত করেছেন, কেউবা শেষ মুহূর্তে এসে হারিয়েছেন যাত্রার নিশ্চয়তা। পুরান ঢাকার বাংলাবাজার মোড় থেকে শুরু করে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো এলাকা হয়ে উঠেছিল যানজটের নরক। ভারী মালামাল নিয়ে হেঁটে সদরঘাটে পৌঁছাতে গিয়ে অনেকেই ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েন।
হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়ে লঞ্চের কর্মীরা বিরক্তিতে ফেটে পড়ছিলেন। এমভি সুন্দরবন-১৪-এর সামনে দাঁড়িয়ে কর্মী বলে উঠছিলেন, ‘ভরলেই ছাড়ব।’ কিন্তু লঞ্চের ডেকে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। ছাদে উঠতে বলা হলেও অনেকেই তা মানতে চাননি। কেউ বলছিলেন, ‘অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছে লঞ্চের মালিকরা বেশি টাকা আদায়ের জন্য যাত্রীদের ছাদে উঠতে বাধ্য করছেন।’
বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও বরগুনাগামী লঞ্চগুলির সামনে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়। এসব লঞ্চের নিচতলার ডেকের অনেক জায়গা দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। পরে বেশি ভাড়ায় বিক্রির উদ্দেশ্যে এমন ব্যবস্থা বলে অভিযোগ উঠেছে। এমএন খান-৭-এর কেবিন ইনচার্জ কামরুল দাবি করেন, ভিড় এড়াতেই যাত্রীদের ছাদে উঠতে বলা হচ্ছে। তবে যাত্রীরা তা মানতে রাজি হননি।
লঞ্চঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হকারদের চাপ ছিল তুঙ্গে। ইফতার, ফল, রুটি, চপ, পেঁয়াজু বিক্রি হচ্ছিল অস্থায়ী দোকানে। পানির জন্য দুই ধরনের দাম রাখা হয়েছিল—‘ইনটেক’ ও ‘নরমাল’। বিক্রেতারা জানান, একটি কোম্পানির পানি আরেকটি ফিল্টার থেকে ভরা। ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রীই শেষ মুহূর্তে লঞ্চ ধরার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভিড়ের চাপে বেশিরভাগই উঠতে পারেননি।
লঞ্চ ছাড়ার পরও ঘাটে অপেক্ষমাণ অসংখ্য যাত্রীর মুখে ছিল উদ্বেগ ও বিরক্তি। মাইকে ঘোষণা এলেও তা যাত্রীদের মনকে শান্ত করতে পারেনি। কোলে শিশুসন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মো. রুবেল বলেন, ‘এতক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও লঞ্চে উঠতে পারলাম না। সারা দিনের ভোগান্তি বৃথা গেল।’ এ যাত্রায় সদরঘাটের লঞ্চভিড় যেন পরিণত হয়েছিল সাধারণ যাত্রীদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে।
মন্তব্য করুন