মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নবম সংসদীয় জেলায় ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ড্যানিয়েল বিস। প্রতিনিধি জন শ্যাকোস্কির পদত্যাগের পর এই নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় মার্কিন ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি)-এর সাথে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রায় চার মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে বলে জানা গেছে।
একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতাটি ছিল তীব্র। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিলেন ইভানস্টনের মেয়র ড্যানিয়েল বিস, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক কাট আবুগাজালেহ এবং রাজ্য সিনেটর লরা ফাইন। সাম্প্রতিক জাতীয় সমীক্ষায় দেখা গেছে যে গত কয়েক বছরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এআইপিএসি-র অর্থায়ন এই নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইলিনয় রাজ্যের নির্বাচনী এলাকা নয়-এর প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এআইপিএসি-র সমর্থন ছিল লরা ফাইনকে ঘিরে। নির্বাচনের আগে পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে বিসের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এআইপিএসি-র সঙ্গে যুক্ত একটি গ্রুপ ইলেকট্রিক শিকাগো উইমেন প্রায় আড়াই মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে ফাইনকে সমর্থন করার জন্য, আবার বিসের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, আরেকটি গ্রুপ শিকাগো প্রোগ্রেসিভ পার্টনারশিপ কাট আবুগাজালেহকে লক্ষ্য করে প্রায় এক লাখ ছেষট্টি হাজার ডলার ব্যয় করেছে।
গাজা যুদ্ধ এবং অভিবাসন ইস্যুও এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বিস স্থানীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরব হন। অন্যদিকে আবুগাজালেহকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে বিসের জনপ্রিয়তা ছিল সবচেয়ে বেশি। নির্বাচনী প্রচারণায় শেষ মুহূর্তে আবুগাজালেহ সামান্য এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলে বিস জয়ী হন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিস তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের এই অসাধারণ যাত্রায় অংশ নিয়েছেন। আমরা এমন একটি জেলার বাসিন্দা, যারা লড়াই করতে জানেন, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট যারা কখনও ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ম্যাগা অনুসারীদের কাছে হার মানবেন না।” তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি, আমি আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব।”
এই নির্বাচনে বিজয় বিসের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি আগামী নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জন এলেসনের মুখোমুখি হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইলিনয় রাজ্যের নবম জেলাটি মূলত ডেমোক্র্যাটিক দলের অনুকূলে বিবেচিত হয়।
মন্তব্য করুন