২০২৬ সালের ইলিনয় রাজ্যের গভর্নর নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিদ্যমান গভর্নর জেবি প্রিৎজকার এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ড্যারেন বেইলির মধ্যে পুনরায় মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিএনএন নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রাইমারিতে জয়ী হয়ে বেইলি পুনরায় জেনারেল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রিৎজকার তার পূর্ববর্তী লেফটেন্যান্ট গভর্নর জুলিয়ানা স্ট্র্যাটনের সিনেট নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে নতুন রানিং মেট হিসেবে খ্রিস্টান মিচেলকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
প্রিৎজকার ইতোমধ্যেই তার তৃতীয় মেয়াদ পাওয়ার জন্য লড়াইয়ে নামছেন। তার জাতীয় পরিচিতি বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তার অবস্থান গ্রহণের কারণে। গত বছরের শরৎকালে ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচালিত ফেডারেল অভিযান ‘অপারেশন মিডওয়ে ব্লিৎজ’ এর বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। তার প্রচারণার একটি বিজ্ঞাপনে তিনি শিকাগো শহরে অভিযান চালানোর বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। নির্বাচনী বিজয়ের পর দেওয়া ভাষণে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে দুর্নীতি ও স্বার্থপরতার ব্যবসায়ীরা, বিদ্বেষ ও ঘৃণার প্রচারকরা হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করছে।’
ড্যারেন বেইলি একজন প্রাক্তন রাজ্য প্রতিনিধি ও সিনেটর। কোভিড-১৯ অতিমারির সময়ে তিনি রাজ্য সরকারের মুখোশ পরার নির্দেশের বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও তার এই অবস্থান ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল, তবে তা তাকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারেনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি প্রিৎজকারের কাছে ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি মাইক বোস্টের বিরুদ্ধে প্রাইমারি লড়াইয়ে অংশ নেন, কিন্তু সেখানে পরাজিত হন। এবার তিনি আবারও রাজ্যের গভর্নর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বেইলি প্রিৎজকারের নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন যে তিনি একজন ধনী ব্যক্তি যিনি কখনও জনগণের কষ্ট অনুভব করেননি। তিনি প্রিৎজকারকে জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন। অন্যদিকে প্রিৎজকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য তিনি নিজেকে একজন সোচ্চার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই নির্বাচনটি কেবল ইলিনয় রাজ্যের জন্যই নয়, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর প্রিৎজকার তার ভাষণে বলেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ইলিনয়বাসীরা সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য রাজ্যগুলি যখন ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করেছে, ইলিনয়বাসীরা তাদের সাহসের মাধ্যমে অটল থেকেছে।’ এই পুনর্নির্বাচনী লড়াইয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন