গত কয়েক বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানিতে মারাত্মক ধস নেমেছিল। কিন্তু এবার সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান থেকে সমুদ্রে অবস্থানরত তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। ক্রেতাদের জন্য এই ব্যবস্থায় সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ইরানের উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মূলত দেশটির তেল খাতকে লক্ষ্য করেই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন প্রশাসন চাপের মুখে পড়ে। এক্ষেত্রে ইরানের তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হলে বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দাম কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে না নিয়ে শুধুমাত্র সামুদ্রিক তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হলেও এর প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে। কারণ ইরানের তেল উৎপাদন ক্ষমতা বেশ উল্লেখযোগ্য এবং দেশটি বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ করে থাকে। তবে ইরানের উপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তেলের দাম আরও বেশি পরিমাণে হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান সরকারও লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইরান তার তেল বিক্রি চালিয়ে যেতে পারবে এবং দেশটির অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও প্রাণসঞ্চার হবে। ইরানের অর্থনীতি গত কয়েক বছরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের মান ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানও নেমে গেছে।
তবে মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উপরও প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, রাশিয়া এবং অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক দেশই ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করতে চাইবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে একই সঙ্গে অনেকে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, ইরানের উপর থেকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না তুলে শুধুমাত্র সামুদ্রিক তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হলে তা ইরান সরকারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমে যাবে।
মন্তব্য করুন