ইরানের ইসফাহান শহরে রবিবার ভোরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানোর খবর পাওয়ার সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে। আল জাজিরার যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়াবিলত জমেছে। যুদ্ধবিমানগুলো নিচু উচ্চতায় উড়ে যাওয়ার চিত্রের পাশাপাশি, কারখানায় নিহত ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু ও আরও অনেকের আহত হওয়ার খবর এসেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছিল একটি রেফ্রিজারেটর ও হিটার তৈরির বেসামরিক কারখানা। এই হামলা ইরানের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণের মধ্যে একটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইসফাহান শহর হামলার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ইসফাহান ইরানের মধ্যভাগে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে অসংখ্য সামরিক ও বেসামরিক কারখানা, পরমাণবিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন রণতন্ত্রের সুবিধাব্যবস্থা রয়েছে। এই শহরের গুরুত্বের কারণে এটি নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে। শনিবার রাতে তেহরান, তাবরিজ, বন্দর আব্বাস ও কেরমান প্রদেশের সিরজানসহ অন্যান্য শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় ১০টি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। কিন্তু ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই দায় অস্বীকার করে বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাথে এই হামলার কোনো সম্পর্ক নেই।’
এই সংঘাতের পটভূমিতে আমাদের দেশের প্রবাসী সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তনাবের কথা আলোচিত হচ্ছে। অনেকেই সন্দেহ করছেন, এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের বাধা পড়তে পারে।
ইরানের কেন্দ্রীয় ইউনিফাইড কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ দাবি করেছে, আঞ্চলিক দেশগুলোতে হামলায় ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনের অনুকরণে তৈরি ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সংঘাতের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। পেট্রোলিয়াম মূল্য বৃদ্ধি, বিমান বিলের বাড়তি খরচ ইত্যাদি কারণে আমাদের অনেকেই আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে পারেন। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কের বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ে আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্য সংগ্রহের উৎসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা। বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য আমাদেরকে ভুল ধারণায় নিয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন