যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সংক্রান্ত তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে যেমনটা ছিলেন তেমনি ধোঁয়াশায় রয়ে গেলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরান যুদ্ধে সেনা পাঠাবেন না, কিন্তু একই সঙ্গে পেন্টাগনের এমন একটা বার্তাকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যা সামনে যেকোনো সময় যুদ্ধের আভাস দিতে পারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে সেনা পাঠানো হবে না। তবে পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, তারা ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থের অনুরোধ করেছে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করতে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কথায় যথেষ্ট সন্দেহ রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের মুখে বারবার ‘শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে’ কথাগুলো শুনতে পেলেও তাঁর প্রশাসনের বক্তব্যে রয়েছে অস্পষ্টতা। অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমশই অবনতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামরিক তৎপরতার কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। ট্রাম্পের এই মিশ্র বার্তা আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দেখাতে চাইছেন, তবে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চান না। এর ফলে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও যুদ্ধের মেয়াদ কমিয়ে আনার একটা প্রচেষ্টা রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁর কথায় স্পষ্ট নয় যে ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে কিনা। কারণ ইরানও নিজেদের শক্ত অবস্থানে রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা কেবল প্রশমিত হওয়ার বদলে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই যুদ্ধের প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে মার্কিন অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান আসলে তাঁর নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে। কারণ আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি নিজেকে শক্তিশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি যেন যুদ্ধের দায়ভার নিজের কাঁধে না নিতে হয় সেদিকেও খেয়াল রাখছেন। ফলে তাঁর কথায় যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি না হলে সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিশ্ববাসীর জন্য নতুন এক অনিশ্চয়তার সময় অপেক্ষা করছে।
মন্তব্য করুন