গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধ তাঁর সামনে পুরো নতুন এক অবস্থা তুলে ধরেছে। এই যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের ভারসাম্য নয়, পুরো মধ্য প্রাচ্যের রাজনীতির গতিপথও পাল্টে দিয়েছে। পুতিনের জন্য এই পরিবর্তন শুধু সামরিক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও এর প্রভাব বিশাল।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ পুতিনের পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে নিজেদের মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল। কিন্তু ইরানের যুদ্ধে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ রাশিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পুতিনের উদ্দেশ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখা, কিন্তু ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত তাঁর সেই পরিকল্পনাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে।
এই যুদ্ধের ফলে পুতিনকে নতুন করে চিন্তা করতে হচ্ছে। তাঁর পূর্ববর্তী সমঝোতা ও কৌশলগুলির কার্যকারিতা এখন প্রশ্নের মুখে। ইরান যদি যুদ্ধে পরাজিত হয়, তাহলে রাশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব কমে যাবে। অন্যদিকে, ইরান জয়ী হলে রাশিয়া নতুন মিত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা তাঁর জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করবে। পুতিনের সামনে এখন কোন পথটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা নির্ণয় করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কিন্তু ইরানের যুদ্ধের ফলে এই সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে, যা রাশিয়ার অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে। পুতিনকে এখন সেই বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
কূটনৈতিক দিক থেকেও পুতিনের নতুন করে হিসাবনিকাশ করতে হবে। ইরানের সঙ্গে সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি ইসরায়েলের সঙ্গেও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার। কিন্তু এই দুটি কাজ একসঙ্গে করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুতিনের সামনে এখন দুটি বিকল্প রয়েছে: হয় তিনি ইরানের পাশে দাঁড়াবেন, অথবা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু যেভাবেই তিনি চেষ্টা করেন, তাঁর জন্য এই যুদ্ধ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন