২০২৩ সালে এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া সিয়ামক নামাজি ও এমাদ শারগি নামের দুই প্রাক্তন ইরানবন্দি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও কিছু মার্কিন নাগরিকের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন, যারা এখন ইরানের কারাগারে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে আটক রয়েছেন। সিএনএন-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফেস দ্য নেশন’-এর উপস্থাপক মার্গারেট ব্রেনানের সঙ্গে আলোচনায় তাঁরা বলেছেন, ইরানে মার্কিনীদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তাঁদের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারকে অবশ্যই আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া যায়।
সিয়ামক নামাজি ও এমাদ শারগি উভয়েই ইরানে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। তাঁদের মুক্তির জন্য কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ২০২৩ সালে এক জটিল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখনও ইরানের বিভিন্ন কারাগারে আরও অনেক মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি অভিযোগও নেই। তাঁদের অনেককেই ইরান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্দি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমাদ শারগি তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ইরানের কারাগারের জীবন ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তাঁকে প্রায় একাকী রাখা হয়েছিল, এবং তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও ছিল খুবই সীমিত। অন্যদিকে সিয়ামক নামাজি বলেন, তাঁর মুক্তির পরেও ইরানে আরও অনেক মার্কিন নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের অবস্থা তাঁর মতোই ভয়াবহ হতে পারে। তিনি মার্কিন সরকারকে অনুরোধ করেছেন, যাতে তাঁরা ইরানের সঙ্গে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
প্রাক্তন এই বন্দিরা আরও জানান, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এই রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এ ধরনের বন্দিদের রাখার মাধ্যমে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তাঁরা মনে করেন, ট্রাম্প সরকার যদি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাহলে হয়তো এ ধরনের অমানবিক পরিস্থিতির অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।
এদিকে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ইরান সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তাঁদের দাবি, ইরান সরকার যেন অবিলম্বে রাজনৈতিক কারণে আটক সব মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়।
মন্তব্য করুন