যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় কাউন্টারটেরোরিজম কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্ট মঙ্গলবার পদত্যাগ করেছেন। ইরান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে বিরোধিতা করেই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নয়। তিনি আরও দাবি করেছেন যে ইসরায়েল ও তার শক্তিশালী মার্কিন লবিবাহিনীর চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেছে। ট্রাম্প অবশ্য বারবার দাবি করেছেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
৪৫ বছর বয়সী কেন্ট একজন বিশেষ বাহিনীর অভিজ্ঞ যোদ্ধা। তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধিতার সূচনা করে। তার পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মার্কিন মিডিয়ার প্রভাবশালী সদস্যরা ইরান নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি ইরান যুদ্ধকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
কেন্টের পদত্যাগপত্র প্রকাশের পর রিপাবলিকান সেনেটর মিচ ম্যাককোনেল তার মন্তব্যকে ‘বিরূপ ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কেন্ট সেনেটরদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তিনি রাখতে পারেননি। এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্ট ইরান সম্পর্কিত গোয়েন্দা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে অংশ নেননি। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গাব্বার্ড বলেন, ইরান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দায়িত্ব।
এর আগে কেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। এ বিষয়ে এফবিআই তদন্ত শুরু করেছিল। তবে কেন্টের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। তার স্ত্রী শ্যানন কেন্ট, যিনি একজন নৌক্রিপ্টোলজিস্ট ছিলেন, তিনি ২০১৯ সালে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযানে শহীদ হন। তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি বলেছিলেন, সরকার বারবার দেশকে যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে মুনাফা অর্জনের জন্য।
কেন্ট তার মিলিটারি কর্মজীবনে ইরাক সহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছেন। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর সিআইএ-তে কাজ করেছেন। ট্রাম্প তাকে জাতীয় কাউন্টারটেরোরিজম কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার নিয়োগের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবেন। তবে কেন্টের নিয়োগের সময় থেকেই তার ডানপন্থী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি বিভিন্ন সময় কোভিড ভ্যাকসিন সম্পর্কে অসত্য তথ্য প্রচার করেছেন, ফাউসিকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনকে চুরি বলে দাবি করেছেন।
কেন্টের রাজনৈতিক জীবনও বিতর্কিত। তিনি দুইবার কংগ্রেস নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। তিনি রাইট উইংয়ের বিভিন্ন চরমপন্থী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগও এসেছে। তবে তিনি পরে তার বেশ কিছু মন্তব্যকে অস্বীকার করেন এবং বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করেন।
বর্তমানে কেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করেছেন। যদিও এফবিআই সরাসরি তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি। তার পদত্যাগের পর প্রশাসনের মধ্যে বিভেদ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতি কতটা যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে কেন্টের পদত্যাগ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন