অস্কার পুরষ্কার জয়ের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডান। তাঁর সাম্প্রতিক ছবি ‘সিনার্স’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অস্কার জয় করেছেন তিনি। এই ছবিতে তিনি যমজ ভাই স্ট্যাক ও স্মোকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যারা নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে আসে এবং একটি অতিপ্রাকৃতিক শক্তির মুখোমুখি হয়। কিন্তু অভিনয় জীবনের এত বড় সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর একটি বিশেষ অভ্যাস—ডায়েরি লেখা।
মাইকেল বি. জর্ডান তাঁর চরিত্রগুলির পেছনের গল্প লেখেন ডায়েরিতে। তিনি বলেন, চরিত্রগুলির জীবনের প্রথম স্মৃতি থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্টের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত সবকিছুই তিনি লিখে ফেলেন। এর মাধ্যমে তিনি চরিত্রটির মানসিক অবস্থা ও আবেগ বুঝতে পারেন। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়াটি চরিত্রটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনের কারণগুলি খুঁজে পেতে সাহায্য করে। অস্কার বিজয়ী হওয়ার পর আয়োজিত একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, ‘আমি আমার চরিত্রগুলির জন্য অনেক ডায়েরি লিখি। তাদের জীবনের প্রথম স্মৃতি থেকে শুরু করে স্ক্রিপ্টের প্রথম পৃষ্ঠা পর্যন্ত সবকিছুই লিখে ফেলি। এতে করে আমি তাদের উৎস সম্পর্কে ধারণা পাই এবং তা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।’
‘সিনার্স’ ছবিতে যমজ ভাই স্ট্যাক ও স্মোকের ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়ে জর্ডান আরও গভীরভাবে চরিত্রগুলিকে বুঝতে চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চক্র কাজ করেছি, যাতে তাদের শৈশবের মানসিক ক্ষতগুলি উন্মোচন করা যায়।’ দক্ষিণ এশিয়ার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে চক্র হল সাতটি শক্তিকেন্দ্র, যা মন, শরীর ও আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্ট্যাক ছিলেন হালকা মেজাজের ও কথাবার্তায় চালাক, অন্যদিকে স্মোক ছিলেন শান্ত ও রক্ষাকর্তা। এই পার্থক্য বুঝতে গিয়ে তিনি দুজন চরিত্রের মধ্যে পারস্পরিক ইতিহাস গড়ে তোলেন। তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে কতবার ঝগড়া হতো, কে কতবার ঠিক ছিল—এসব বিবরণ দিয়েই তাদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছি।’
এই প্রক্রিয়াটি শুধু তাঁকে দুটি চরিত্রকে আলাদা করতে সাহায্য করেনি, বরং ছবিতে তাঁদের সম্পর্কের সূক্ষ্ম nuances তুলে ধরতে সহায়তা করেছে। পরিচালক রায়ান কুগলারের ছবি ‘সিনার্স’ চারটি অস্কার পুরস্কার জয় করেছে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রেষ্ঠ মৌলিক চিত্রনাট্য ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রহণ। অস্কার অনুষ্ঠানে জর্ডান তাঁর মা, বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
এই ডায়েরি লেখার অভ্যাসটি নতুন নয়। এর আগে ২০১৮ সালে স্টিফেন কলবার্টের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে জর্ডান বলেছিলেন, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবিতে এরিক কিলমঙ্গারের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তার জীবন ছিল খুবই অন্ধকারময়। তাঁর মা ছিলেন না, বারবার ফোস্টার কেয়ারে তাঁকে থাকতে হয়েছে—এসবই তিনি তাঁর ডায়েরিতে লিখেছিলেন। অনেক কিছুই জনসমক্ষে বলা যায় না, কিন্তু এই প্রক্রিয়া তাঁকে চরিত্রটির মানসিক অবস্থায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।’
অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে জর্ডান যে নিষ্ঠা ও গভীরতা প্রদর্শন করেছেন, তা তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বারবার ফুটে উঠেছে। ডায়েরি লেখার মতো সাধারণ অভ্যাসটিই তাঁকে এমন অসাধারণ অভিনয় উপহার দিয়েছে, যা দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তাঁর এই পদ্ধতি অন্য অভিনেতাদের জন্যেও অনুপ্রেরণা হতে পারে।
মন্তব্য করুন